ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতার গ্রেফতারকালে সহিংসতা: পাঁচ পুলিশ আহত
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় এক উত্তেজনাকর ঘটনায় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর লাঠিয়াল বাহিনীর হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। নেতাকে হ্যান্ডকাফ পরানো অবস্থায় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেফতার প্রচেষ্টা ও হামলার বিস্তারিত
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটায় চরভদ্রাসনের মুন্সিরচর বাজার থেকে সন্ত্রাস দমন আইনে আওয়ামী লীগ নেতা মো. কবির খানকে গ্রেফতার করার সময় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পদ্মা নদী পার হয়ে দুর্গম চরাঞ্চলের বাজারে ওত পেতে ছিল। নেতার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো মাত্রই ধস্তাধস্তি শুরু হয়, এবং তার চিৎকারে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি লাঠিয়াল বাহিনী ছুটে এসে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা কিলঘুসি ও লাঠিসোটা দিয়ে পুলিশ সদস্যদের আঘাত করে, যার ফলে পাঁচ জন আহত হন। আহতরা হলেন চরভদ্রাসন থানার এসআই রফিকুল ইসলাম, এসআই কাজী রিপন, এসআই মোজাম্মেল হক বিশ্বাস, এএসআই সোহেল গাজী এবং কনস্টেবল উজ্জ্বল হোসেন। তারা সবাই চরভদ্রাসন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নেতার পরিচয় ও পুলিশের বক্তব্য
আহত নেতা মো. কবির খান (৫২) চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি পশ্চিম চরশালেপুর গ্রামের মৃত ছুরমান খানের মেজো ছেলে। ঘটনার পর তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
চরভদ্রাসন থানার ওসি ছুটিতে থাকায় দায়িত্বে থাকা এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, কবির খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও বহু অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হামলার পর হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ এখন নেতা ও তার সহযোগীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চালাচ্ছে।



