স্বাধীনতার পর মোট বিদেশি ঋণের ৭৮% নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার
স্বাধীনতার পর মোট বিদেশি ঋণের ৭৮% নিয়েছে আ.লীগ

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণের ৭৮ শতাংশই নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে গত সাড়ে ১৫ বছরে নতুন ঋণ নেওয়া হয়েছে ৮ হাজার ৬২ কোটি ডলার। এসব ঋণের বড় অংশই ছিল চড়া সুদ ও কঠিন শর্তের জালে বন্দি।

ডলারের দাম ও সুদের হার বৃদ্ধি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০০৯ সালের শুরুতে ডলারের দাম ছিল ৬৯ টাকা, কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২০ টাকা। এমনকি ব্যাংকে ১৩২ টাকা দরেও ডলার বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের সুদের হার বেড়েছে ৪-৫ শতাংশ থেকে ৭-৯ শতাংশে। ২০২২-২৪ সালে বৈশ্বিক মন্দার সময় এই হার আরও বেশি ছিল।

ঋণের শর্ত ও পরিশোধের চাপ

চুক্তি অনুযায়ী মোট ঋণের ৭৫ শতাংশের সুদ ও বিনিময় হার বাজারভিত্তিক। ফলে ঋণ পরিশোধের সময় বাজারের সুদহার ও ডলারের দাম অনুযায়ী পরিশোধ করতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ডলারের দাম বেড়েছে ৫১ টাকা, যা টাকার মান কমিয়েছে। ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর কারণে নিয়মিত সুদের পাশাপাশি দণ্ড সুদ ও সার্ভিস চার্জ দিতে হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঋণের অপব্যবহার ও রিজার্ভের চাপ

মোট ঋণের প্রায় ৭৬ শতাংশই চড়া সুদ ও কঠিন শর্তের ঋণ। এসব শর্ত বাস্তবায়নে সরকার ভোক্তার ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ঋণের অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা দেশের দায় বাড়িয়েছে। সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় এমন প্রকল্পে ঋণ ব্যয় করলে ঝুঁকি কম থাকে, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া ঋণের বেশিরভাগই স্থানীয় মুদ্রা নির্ভর প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঋণ পরিশোধের বর্তমান অবস্থা

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের ঋণের প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত সরকারি খাতে ৪০০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হবে। অর্থনৈতিক মন্দায় রাজস্ব আয় কম হওয়ায় সরকারকে স্থানীয়ভাবে ঋণ নিয়ে ডলার কিনে ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

মাথাপিছু ঋণ বৃদ্ধি

আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৬০৭ ডলার, যা ২০০৯ সালে ছিল ১৬৯ ডলার। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা দাঁড়ায় ৬৫৭ ডলারে। মাথাপিছু মোট ঋণের ৭০.৫১ শতাংশ বেড়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।

রিজার্ভের ওপর প্রভাব

সরকারি খাতের ঋণ পরিশোধের চাপে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে আমদানি ব্যয় বাড়িয়েছে। ফলে রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয়, বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ থেকে আসা ডলার দিয়ে আমদানি ব্যয় ও বেসরকারি খাতের ঋণ পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত ডলার থাকছে না। রিজার্ভ থেকে ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা রিজার্ভের চাপ বাড়িয়েছে।

ঋণের বিপরীতে রিজার্ভের অনুপাত

বৈদেশিক ঋণ বেশি বাড়লেও রিজার্ভ সে অনুপাতে না বাড়ায় ঋণের বিপরীতে রিজার্ভের অনুপাত ২৩ শতাংশে নেমেছে, যা ২০২০ সালে ছিল ৬০ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক ঋণ উন্নয়ন খাতে ব্যয় করলে কিছু সুফল মিলত, কিন্তু ঋণের টাকার一部分 বিদেশে পাচার হয়েছে। ফলে দেশের দায় বেড়েছে এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।