ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই গ্রামের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (২০) নামের এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় বুধবার (১ জুলাই, ২০২৬) স্থানীয়রা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিচার দাবি করেছে। নিহত সুমন শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কাপুরিয়া সাদারদি গ্রামের বাসিন্দা।
মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ
বুধবার সকাল থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা সুমন শেখ হত্যার দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। এতে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল মুন্সি বলেন, “আমরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। সংঘর্ষের প্রধান আসামি সাজিব মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার
এদিকে, মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৭ জনকে আটক করে। বুধবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “রাতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সুমন শেখ নামের এক যুবক নিহত হয়। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সুমনের হত্যার বিচার দাবি করে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে। হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”
সংঘর্ষের পটভূমি
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার-পাঁচ মাস আগে কাপুরিয়া সাদারদি গ্রামের ইসমাইল মুন্সির ভাতিজা এবাদুলসহ কয়েকজন যুবককে পৌরসভা অফিসের সামনে নিয়ে গিয়ে হাসামদিয়া গ্রামের ফয়সাল সর্দারসহ কয়েকজন যুবক মারধর করে। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়।
সেই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এবাদুল হাসামদিয়া ব্রিজের কাছে গেলে ফয়সাল সর্দার ও তার সহযোগীরা তাকে আবারও মারধর করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন রাতে মহাসড়কে দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, বল্লম ও টর্চলাইট নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। হাসামদিয়া গ্রামের লোকজন মাইকিং করে ডাক দিলে সংঘর্ষে উভয় পক্ষে কয়েকটি গ্রামের লোকজন যোগ দেয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে।
আসামির বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে হাসামদিয়া গ্রামের প্রতিপক্ষ এনায়েত সর্দারের সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাজিব মাতুব্বর দাবি করেন, সুমন শেখকে গুলি করে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।



