কুড়িগ্রাম কারাগারে মায়ের সাথে বন্দি দুই বছরের শিশু, হাইকোর্টের নির্দেশ
কুড়িগ্রাম কারাগারে মায়ের সাথে বন্দি দুই বছরের শিশু

প্রতিবেশীর শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মায়ের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে দেড় মাস ধরে বন্দি রয়েছে দুই বছরের এক শিশু। গত ১ মে থেকে শিশুটি কারাগারের নারী ওয়ার্ডে তার মায়ের সাথে বন্দি জীবন যাপন করছে। কুড়িগ্রাম কারাগারের জেলার এজি মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

কারা সূত্র জানায়, চিলমারী উপজেলার আলোচিত শিশু আয়শা (২) হত্যা মামলার প্রধান আসামি এক নারী (২৬) তার ২ বছর বয়সি শিশুসন্তানকে নিয়ে কারাবন্দি রয়েছেন। গত ১ মে পুলিশ ওই নারী ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করে। এরপর গ্রেফতার নারী শিশু আয়শাকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এর আগে গত ১৭ এপ্রিল নিজ বাড়ির পাশে শিশু আয়শার লাশ উদ্ধার করে তার স্বজনরা।

হাইকোর্টের নির্দেশনা

দেশের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত মায়েদের সঙ্গে অবস্থানরত শিশুদের সংখ্যা এবং তাদের সার্বিক অবস্থান সম্পর্কে ২ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কারাগারগুলোতে অবস্থানরত শিশুদের যথাযথ নিরাপত্তা, কল্যাণ ও বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার ও অন্যান্য বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার কামরুন নাহার মাহমুদ (দীপা)।

কারাগারের বর্তমান অবস্থা

কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার সূত্র জানায়, জেলা কারাগারের দুটি নারী ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতা ১৮। তবে বুধবার (১৭ জুন) সকাল পর্যন্ত ২১ জন নারী বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে মাদক মামলায় বন্দি নারীর সংখ্যা ৯ জন এবং হত্যা মামলায় ৮ জন। এছাড়াও এনআই অ্যাক্ট মামলায় ২ জন এবং মারামারির জনিত মামলায় ১ জন নারী কারাবন্দি রয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারা সূত্র জানায়, কুড়িগ্রাম কারাগারে ২১ জন নারী বন্দি থাকলেও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত একজন মায়ের সাথে তার দুই বছর বয়সি শিশুসন্তানও কারাগারে রয়েছে। কারাবিধি অনুযায়ী শিশুটিকে খাবার সরবরাহ করা হয়। শিশুটি মায়ের দুধ পান করলেও তার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে দুধ ও ডিমসহ অন্যান্য শিশুখাদ্য সরবরাহ করে।

জেলার এজি মাহমুদ বলেন, ‘কারাবন্দি এক নারীর সঙ্গে তার দুই বছরের সন্তান রয়েছে। শিশুটির জন্য কারাবিধি অনুযায়ী শিশু খাদ্য সরবরাহ করা হয়।’

আইনজীবীর বক্তব্য

কারাবন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সুরক্ষা ও মানসিক বিকাশ নিয়ে রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার কামরুন নাহার মাহমুদ (দীপা) বলেন, ‘কারাবন্দি মা তার শিশু সন্তানকে কারাবিধি অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে ৪ বছর এবং বিশেষ বিবেচনায় সর্বোচ্চ ৬ বছর বয়স পর্যন্ত নিজের কাছে রাখতে পারেন। আমাদের রিট আবেদনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল মায়ের অপরাধের কারণে সৃষ্ট বন্দিত্ব যেন কোনোভাবেই শিশুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। একটি নিষ্পাপ শিশু যাতে কারাগারের গন্ডিবদ্ধ পরিবেশে নিজেকে অপরাধী ভেবে বড় না হয়, বরং সেখানেও যেন তার সুস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের মতো মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত থাকে- তা নিশ্চিত করাই এই আইনি পদক্ষেপের লক্ষ্য। মহামান্য আদালত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে শুনানি অন্তে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও রুল জারি করেছেন।’