কুমিল্লায় ২ পুলিশ কর্মকর্তার ১৬০ কেজি গাঁজা বিক্রির অভিযোগ, তদন্ত শুরু
কুমিল্লায় ২ পুলিশের ১৬০ কেজি গাঁজা বিক্রির অভিযোগ

কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার দুই উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ১৬০ কেজি গাঁজা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মহাসড়কে একটি কাভার্ডভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা গাঁজা মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও ঘটনার বিবরণ

অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন এসআই মো. ইমাম উদ্দিন এবং এএসআই হাফিজুর রহমান। দাউদকান্দি থানার একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যান টোলপ্লাজার পুলিশ চেকপোস্ট ও ফায়ার সার্ভিসের সামনে গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছিল। ওই কাভার্ডভ্যানে ১৬০ কেজি গাঁজা ছিল বলে জানা যায়। সে সময় নাইট ডিউটিতে ছিলেন এসআই মো. ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমান।

গাঁজা উদ্ধার ও বিক্রির পদ্ধতি

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সামনে অপেক্ষমাণ কাভার্ডভ্যানে তল্লাশি চালান। এ সময় তিনটি গাইটভর্তি ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। কাভার্ডভ্যানটি চার ঘণ্টা আটকে রাখার পর রাত ১২টার দিকে তিন মাদককারবারির কাছে ধাপে ধাপে গাঁজাগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে একটি কালো টিআরএক্স মাইক্রোবাসে করে গাঁজাগুলো নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গাঁজা বিক্রির পর ৩০ হাজার টাকা নিয়ে কাভার্ডভ্যানটি ছেড়ে দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, প্রতি কেজি গাঁজা ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সেদিন রাত ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সামনে একটি কাভার্ডভ্যান আটক করে চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে এসআই ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমান বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন। সে সময় সিএনজি নিয়ে কয়েকজন মাদককারবারির আনাগোনা দেখা যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্ত পুলিশের বক্তব্য

প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিষয়টি সমাধানের জন্য ওসির সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। এসআই ইমাম উদ্দিন বলেন, ‘ওই সময় আমি নাইট ডিউটিতে ছিলাম। গাঁজা উদ্ধার ও বিক্রির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’ এএসআই হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে ইমাম স্যার জানেন। আমি কিছু বলতে পারব না।’

ওসি ও পুলিশের অবস্থান

দাউদকান্দি থানার ওসি এমএ বারী বলেন, ‘এসআই ইমাম একটা ডাকাত। তার এই কাজটা ঠিক হয়নি। ১০০ কেজি দিয়ে মামলা করে বাকিটা এদিক-সেদিক করলে আমি কিছুই বলতাম না। এখন তার বিরুদ্ধে সংবাদ হলে আমার কিছু বলার নেই।’ দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’