সরকার সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সারওয়ার আলমকে তার বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ও জনমহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যাহারের সরকারি আদেশ
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় রোববার (২১ জুন) এক প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা সিনিয়র সহকারী সচিব জেটি প্রু স্বাক্ষর করেছেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এই বদলি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সরকারি আদেশে এই পদক্ষেপের কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও, সারওয়ার আলমের সাম্প্রতিক সময়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরান (রহ.)-এর দরগাহের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনার প্রচেষ্টার পর এই বদলি ঘটেছে। এই দুটি দরগাহ বাংলাদেশের অন্যতম পূজনীয় ধর্মীয় স্থান।
দরগাহের দান ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্যোগ
সারওয়ার আলম গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পান। তার আগে সাবেক ডিসি মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ সাদাপাথর কেলেঙ্কারির কারণে পদ থেকে সরানো হয়েছিলেন।
বছরের পর বছর ধরে দরগাহগুলিতে ভক্তদের দেওয়া দানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত দরগাহ পরিদর্শন করেন এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণ, গবাদি পশু ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস দান করেন, যা দরগাহ কর্তৃপক্ষের জন্য যথেষ্ট রাজস্ব সৃষ্টি করে।
সূত্র অনুযায়ী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। ডিসির সভাপতিত্বে এক সভায় দরগাহ কর্তৃপক্ষকে আয়-ব্যয়ের রেকর্ড চাওয়া হয়, কিন্তু তারা সন্তোষজনক নথি উপস্থাপন করতে পারেনি।
প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
সারওয়ার আলমের বদলির সময় নিয়ে বিশেষভাবে নজর পড়েছে, কারণ এটি দরগাহ দুটিতে দান সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নেওয়া একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের পর ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ডিসির এই উদ্যোগ দরগাহ কর্তৃপক্ষের কিছু অংশের অসন্তোষের কারণ হতে পারে। তবে সরকারি প্রজ্ঞাপনে শুধু জনস্বার্থের কথা বলা হয়েছে।



