ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা রেলওয়ে স্টেশনে স্টেশন মাস্টারকে মারধর এবং রেলওয়ের বিভিন্ন সরকারি মালামাল ভাঙচুরের ঘটনায় সুমন মিয়া নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২১ জুন) সকাল সোয়া ৯টার দিকে উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন কসবা স্টেশনে পৌঁছানোর পর এ ঘটনা ঘটে। আটক সুমন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা রৌশন আলীর ছেলে।
ঘটনার বিবরণ
আহত স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ শফিকুর রহমান জানান, ট্রেনটি স্টেশনে থামার পর সুমন মিয়া তার কক্ষে ঢুকে টিকিট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উত্তেজিত আচরণ করেন। তিনি দাবি করেন, টিকিট না থাকায় তার কাছ থেকে ১০০ টাকা জরিমানা নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টারের কাছে কৈফিয়ত চান। তখন স্টেশন মাস্টার তাকে জানান, টিকিট পরীক্ষা ও জরিমানা আদায়ের দায়িত্ব ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) ও রেলওয়ে পুলিশের। এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টারের কোনো ভূমিকা নেই।
হামলা ও ভাঙচুর
এ কথা বলার পর সুমন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে স্টেশন মাস্টারের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি স্টেশনের অ্যানাউন্সমেন্ট মাইক, কম্পিউটার, মাউস, টেলিফোন, ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন সরকারি সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন। পরে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করে কসবা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
কসবা থানার ওসি নাজনীন সুলতানা বলেন, ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টিকিট ছাড়া ভ্রমণের দায়ে জরিমানা করাকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনার সূত্রপাত।
তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। বর্তমানে আটক ব্যক্তি কসবা থানায় রয়েছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



