ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু: বিচার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু: অবরোধ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে অসুস্থ হয়ে ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্তর (২৭) মৃত্যুর ঘটনার বিচার দাবিতে আজ সোমবার আধা ঘণ্টার বেশি ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় জনতা। পরে জানাজায় অংশ নিয়ে উপজেলা বিএনপির তিন নেতা ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

মৃতদেহ বাড়ি আনার পর অবরোধ

আজ সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের হিমঘর থেকে মির্জা ইশতিয়াকের মৃতদেহ মধুখালী পৌরসভার পেঁয়াজবাজারসংলগ্ন পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাড়িতে আনা হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পেঁয়াজবাজার এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অবরোধকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী ছিলেন। লোকজন মহাসড়কের ওপর বসে ও শুয়ে পড়েন। পুলিশ প্রথমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও জনতার প্রতিরোধের মুখে তারা সামনে এগোতে পারেনি। বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধকালে সড়কের দুই পাশে শত শত দূরপাল্লার যানবাহন আটকে পড়ে, এতে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের অনুরোধে অবরোধ প্রত্যাহার

যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে মৃত মির্জা ইশতিয়াকের পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে অবরোধকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। তখন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জোহরের নামাজের পর বেলা দুইটার দিকে মধুখালী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শুরু হয়। এতে মৃতের পরিবারের পক্ষে তার চাচাতো ভাই মির্জা লোটাস কামাল বক্তব্য দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিএনপি নেতাদের ‘হত্যাকাণ্ড’ আখ্যা

জানাজা শুরুর আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম ও মধুখালী পৌর বিএনপির সভাপতি হায়দার আলী মোল্লা বক্তব্য দেন। তাঁরা তিনজন ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ আখ্যায়িত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ ওরফে সতেজ বলেন, ‘প্রান্ত (মির্জা ইশতিয়াক) হত্যার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধী যে–ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সকলের আছে। কিন্তু আসামিকে ধরে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে, এইটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নিতে পারি না।’

সাহাবুদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘এ ঘটনা কারা করল? এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত? আমরা তাদের সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা চাই কোনো মাকে যেন তার সন্তানকে হারাতে না হয়। কোনো মানুষকে যাতে পুলিশি নির্যাতনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করতে না হয়।’

দাফন ও তদন্ত কমিটি

জানাজার পর পশ্চিম গোন্দারদিয়াস্থ পারিবারিক কবরস্থানে বাবা মৃত এসকেন হায়দারের কবরের পাশে মির্জা ইশতিয়াককে দাফন করা হয়।

অন্যদিকে, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মির্জা ইশতিয়াকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম গতকাল রোববার বিকেলে এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলামকে। অন্য দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম ও ডিএসবির (ওসি) মোশাররফ হোসেন। এই কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম।

তদন্ত কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম আজ বিকেল পৌনে চারটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা তাঁরা করবেন।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদকে আটক করে ডিবি। এ সময় তাঁকে তাঁর মায়ের সামনেই পেটানো হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ। পরদিন রোববার সকাল আটটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিবি হেফাজতে ইশতিয়াকের মৃত্যু হয়। পরে ইশতিয়াক ছাত্রলীগের ‘একনিষ্ঠ কর্মী’ জানিয়ে শোকবার্তা দিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনটির ফরিদপুর জেলা শাখা।