রাজবাড়ীর কালুখালীতে জামায়াত কর্মী আসাদুল ইসলাম (২২) হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ধারের টাকা পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামসুল হক।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো—রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্য্যদিয়া গ্রামের কাউসার শেখের ছেলে মো. মিজান শেখ (২৪), পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আসমত মন্ডলের ছেলে মো. আনোয়ার মন্ডল (৪৪) এবং সূর্য্যদিয়া গ্রামের শাহাজউদ্দীনের ছেলে মো. আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।
নিহতের পরিচয়
নিহত আসাদুল ইসলাম কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিলমানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মন্ডলের ছেলে। তিনি মীর মশাররফ হোসেন সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী এবং মদাপুর ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সম্পাদক ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্য্যদিয়া মাদরাসার পেছনে পাটক্ষেতে নিখোঁজ আসাদুল ইসলামের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বাবা শাহজাহান মন্ডল কালুখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালায়।
হত্যার কারণ
তদন্তে জানা যায়, আসামি মিজান শেখের কাছ থেকে ভুক্তভোগী আসাদুল ইসলাম ৪ মাস আগে ৬৮ হাজার টাকা ধার নেন। সময়মতো টাকা পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামি মিজান শেখ ও তার সহযোগীরা মিলে আসাদুলকে হত্যা করে মরদেহে আগুন লাগিয়ে দেয়।
গ্রেফতার ও উদ্ধার
পরে সহকারী পুলিশ সুপার, পাংশা সার্কেল দেব্রত সরকারের নেতৃত্বে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) যৌথ অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি রক্তমাখা হেলমেট, একটি এসএস পাইপ (রড) এবং একটি লোহার ফোল্ডিং স্টিক উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামসুল হক বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে আসামি মিজান শেখ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।



