সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সিলেটের সচেতন নাগরিকরা। সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘সিলেটের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।
প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপট
এর আগে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। গত বছরের আগস্টে সিলেটের সাদা পাথর লুট নিয়ে তোলপাড়ের মুখে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। মাত্র ১০ মাসের মাথায় তাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো।
বিক্ষোভের ধারা
তার এই হঠাৎ প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়ে ‘সিলেটের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন হয় রোববার। সোমবারও জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্টের সামনে বিক্ষোভ করা হয়। ‘সিলেটের সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘সিলেটের যুব সমাজ’, ‘সিলেটের সচেতন তরুণ’ সহ নানা ব্যানারে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলোতে বিভিন্ন বয়সী লোকজন ও বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এসব বিক্ষোভ থেকে ‘ডিসি সারওয়ারের প্রত্যাহার মানি না’, ‘সিলেটবাসীর দরকার, ডিসি সারওয়ার’ এরকম বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
বক্তাদের বক্তব্য
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জেলা প্রশাসক সিলেটে দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। সিলেটবাসীর বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। অনিয়মের বিরুদ্ধে তার সোচ্চার কণ্ঠকে থামাতেই ডিসিকে বদলি করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটই তাঁকে সিলেট থেকে সরাতে আড়ালে কাজ করেছে।
তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক একাধিক সূত্র বলছে, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় ছিলেন সারওয়ার আলম। সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে জেলা প্রশাসকের কিছু উদ্যোগ আলোচিত-সমালোচিত হয়।
মাজার ইস্যু
গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।
নাগরিকদের বিবৃতি
এদিকে, হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার নিয়ে ডিসি সারওয়ারের পদক্ষেপের প্রতিবাদে সিলেটের ৬৭ নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা মাজারের ‘ঐতিহ্য বিনষ্ট করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের নিন্দা জানান। বিবৃতিতে মাজারে প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ঐতিহ্য ও মাজার সংস্কৃতিবিরোধী আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়, শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই দরগাহে এ ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ স্বাধীন বাংলাদেশে অতীতে কখনো দেখা যায়নি। এই ঘটনা দরগাহ ও মাজার সংস্কৃতিবিরোধী একটি বিশেষ মহলের অভিসন্ধি পূরণে পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা জনমনে তীব্র সংশয় ও আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
বিবৃতিতে সই করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউদ্দিন আহমেদ, প্রবীণ আইনজীবী তবারক হোসেন, সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান বাবরুল হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত এআইজি সৈয়দ বজলুল করিম, প্রবীণ রাজনীতিবিদ বেদানন্দ ভট্টাচার্য প্রমুখ।



