বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
জামিনে মুক্তির বিবরণ
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) জান্নাতুল ফেরদৌস রোববার সকালে ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অধ্যাপক বারকাতকে মুক্তি দেওয়া হয়, যখন কারা কর্তৃপক্ষ আদালতের জামিন আদেশের কপি পায়।
আদালতের জামিন আদেশ
এর আগে ১৬ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে তাকে জামিন দেন। পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন আদালতের আদেশ নিশ্চিত করেন। অধ্যাপক বারকাতকে ১৪ জুন আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার আইনজীবী জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং ১৫ জুন শুনানির দিন ধার্য করেন।
জামিন আবেদনের শুনানি
১৫ জুন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে জামিন আবেদন খারিজ হয়। তবে পরের দিন আদালত পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত ৫ হাজার টাকার বন্ডে অধ্যাপক বারকাতকে জামিন দেন। শুনানিতে প্রতিরক্ষা কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট শাহিনুর ইসলাম যুক্তি দেন যে তার মক্কেলের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। তিনি অধ্যাপক বারকাতের বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় জামিন দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আহ্বান জানান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শামসুদ্দোহা সুমন জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।
মামলার বিবরণ
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় বিক্ষোভের সময় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ঘটনার পর তার বোনের স্বামী আব্দুর রব নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং তালিকায় আবুল বারকাতও ছিলেন।



