লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
ভারতের গুজরাটের রাজকোট জেলার গোন্ডাল তালুকের গুন্ডালা গ্রামে গত ৩০ জুন এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটে। ২৩ বছর বয়সি রাম বাবুবাই বামভাভা নামের এক যুবককে তার জন্মদাতা পিতা-মাতা ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে হত্যা করেন। ঘটনাটিকে প্রথমে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হলেও পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ফাঁস হয় ভয়াবহ সত্য।
মদাসক্তিকে কেন্দ্র করে পারিবারিক অশান্তি
তদন্তে জানা যায়, নিহত রাম দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন। তার এই অভ্যাস নিয়ে পরিবারে প্রতিনিয়ত অশান্তি লেগে থাকত। বাবা বাবুবাই ওরফে অতুলবাই ঘুগাবাই বামভাভা এবং মা মণীষাবেনের (ওরফে মোতিবেন) সঙ্গে তার প্রায় প্রতিদিনই তীব্র কথাকাটি ও বিবাদ হতো। ঘটনার দিনও মদ্যপান নিয়ে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
হত্যার পদ্ধতি: অ্যাসিড ও শ্বাসরোধ
ঝগড়া চরমে উঠলে মা মণীষাবেন জোরপূর্বক রামের মুখে অ্যাসিড ঢেলে দেন। একই সময় বাবা বাবুবাই তার ওপর প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, রামের মৃত্যু অ্যাসিডের মারাত্মক প্রভাব ও শ্বাসরোধের কারণে হয়েছে।
আত্মহত্যা নাটক সাজানোর চেষ্টা
হত্যার পর পেশায় স্থানীয় চা বিক্রেতা বাবুবাই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেন। নিজের অপরাধ ঢাকতে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের শরণাপন্ন হন, যাতে গোন্ডাল সিভিল হাসপাতালে দ্রুত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে সন্দেহ এড়ানো যায়। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার এই চাতুরী ব্যর্থ হয়।
স্ত্রীর অভিযোগে গ্রেপ্তার
ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পেয়ে নিহতের স্ত্রী বংশীবেন বামভাভা—যার সঙ্গে মাত্র চার মাস আগে রামের বিয়ে হয়েছিল—শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গোন্ডাল থানা পুলিশ হত্যা মামলা রুজু করে অভিযুক্ত বাবা-মা দুজনকেই গ্রেপ্তার করে। চার ভাইবোনের মধ্যে রাম ছিলেন সবার বড়। পুলিশ ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।



