বিরোধী দল স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে কোনো আলোচনা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। তিনি বলেন, তারা শুধু সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
বিরোধী দলের সংস্কার প্রসঙ্গে সমালোচনা
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ওনারা মাঝেমধ্যেই সংস্কারের কথা বলেন, জুলাই সনদের কথা বলেন। কিন্তু তারা শুধু সেই সংস্কারের কথাই বলেন, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে।’ তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের বিষয়ে বিরোধী দল একদিনও সংসদে আলোচনা করেনি। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন বিভিন্ন সুপারিশ দিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেই প্রতিবেদন নিয়ে সংসদে গঠনমূলক আলোচনা হলে সরকারও উপকৃত হতো। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খুশি হতাম, আমাদের বিরোধী দল যদি স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে এখানে আলোচনা করত।’
স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ ও ব্যয়
বক্তব্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতের কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জও তুলে ধরেন এম এ মুহিত। তিনি বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অতিমারি ও মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় মোট ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীদের নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হয়। তুলনামূলকভাবে থাইল্যান্ডে এ হার প্রায় ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে প্রায় ১৮ শতাংশ।
বাজেটের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা এবং এমন একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সহজে ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবে। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য খাতে বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। তবে এ বাজেটে অপরিকল্পিতভাবে নতুন হাসপাতাল বা ভবন নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা রাখা হয়নি; বরং বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।



