নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলে হত্যাসহ তিন মামলার আসামি সেলিম মুন্সিকে (৪২) গ্রেপ্তারের পর থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় আবদুল আলীম (৩৭) নামের এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার চরাঞ্চলের শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আসামি সেলিম মুন্সি রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সেলিম মুন্সি এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন খবর পেয়ে রায়পুরা থানার একটি দল অভিযান চালায়। উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে পুলিশের ১০ সদস্যের দলটি বিকেলে সেলিম মুন্সিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে নিয়ে থানায় ফিরছিল পুলিশ। পুলিশ সায়দাবাদ ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় ৪০ থেকে ৫০ জন লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
হামলায় আহত পুলিশ সদস্য
এসআই মো. শাহজাহান জানান, হামলায় কনস্টেবল আবদুল আলীম ইটের আঘাতে আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের কাছ থেকে সেলিম মুন্সিকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত কনস্টেবলকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নুসরাত জাহান বলেন, আহত পুলিশ সদস্যের বাঁ কাঁধে ইটের আঘাত লেগেছে। তাঁকে এক্স-রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর প্রচুর মানুষ জড়ো হয়ে গিয়েছিল। ভিড়ের মধ্যেই ওই আসামি পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়া আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য সায়দাবাদ এলাকায় আবার অভিযান চালানো হবে।



