নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে সিজান (২৫) নামে এক যুবককে বাসা থেকে ডেকে এনে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মসজিদের ইমামসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে নিহত সিজানের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবরণ ও আসামি তালিকা
এদিন রাতে মামলা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, 'উল্লেখিত আসামিদের সঙ্গে অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামিদের নাম পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে।'
মামলার উল্লেখিত আসামিরা হলেন- পশ্চিম মাসদাইরের খলিলের মোড় এলাকার আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম মো. কাউছার আহমেদ কাশেমী (৪০), আব্দুল গনি হুজুর (৫০), রাজমিস্ত্রি আজহার (৫৫), সাইদুল (৪২), আলম (৩৪) ও ফতুল্লা থানা ওলামা দলের সভাপতি জিলানী ফকির (৫৫)।
ঘটনার বিবরণ
মামলায় উল্লেখ করা হয়, সিজান এক সময় অসৎ সঙ্গের কারণে বিপথগামী হয়ে পড়লেও পরবর্তীতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করেন। তিনি তাবলিগ জামাতে যুক্ত হওয়ার পর বড় ভাইয়ের কাঁচামালের ব্যবসায় সহযোগিতা করতেন।
গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে অনিক নামে এক ব্যক্তিকে মোবাইল চুরির সন্দেহে আটক করেন উল্লেখিত আসামিরা। তখন অনিক সিজানের নাম বললে আসামিরা সিজানকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মাসদাইর খলিলের মোড়ে নিয়ে যান। এরপর সিজান ও অনিককে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে চোখ-মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। এতে সিজানের ডান পায়ের হাঁটুর নিচের হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
মৃত্যু ও আইনি প্রক্রিয়া
পরে রাত ৭টার দিকে সিজানকে অচেতন অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। তখন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি মাহবুব আলম আরও বলেন, 'অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।'



