কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। উপজেলার একটি নুরানি ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। রোববার (৫ জুলাই) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুড়া বাজার এলাকার আনু মিয়ার ছেলে রাকিব (১৯) ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে (১৭) দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ৩০ জুন বিকালে রাকিব ওই শিক্ষার্থীকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় আসতে বলেন। এরপর ওই শিক্ষার্থী সেখানে গেলে মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষে উভয়ে গল্প করেন।
শিক্ষকের জড়িত থাকা
এ সময় রাকিব মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক সহিদুল ইসলামের (৪০) সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সেখানেই অবস্থান করেন। পরবর্তীতে রাত গভীর হলে ওই শিক্ষক রাকিবকে শ্রেণিকক্ষেই ঘুমাতে বলে মেয়েটিকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে নিয়ে যান। এরপর অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে সহিদুল ওই ছাত্রীকে মারধর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে রাকিব এসে দরজা খুলতে বললে সহিদুল রাকিবের কাছে শিক্ষার্থীকে রেখে চলে যান।
ধর্ষণ ও পরবর্তী ঘটনা
পরে তাকে ধর্ষণচেষ্টার কথা রাকিবকে জানালে তিনি ভুক্তভোগীকে সান্ত্বনা দেন। এরপর রাকিব ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে রাতভর একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরদিন সকালে রাকিব ও শিক্ষক সহিদুল মাদ্রাসা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে স্বজনদের জানান। এরপর স্থানীয় মাতবররা ওই শিক্ষকের পক্ষ হয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শিক্ষার্থীর পরিবারকে চাপ দিতে থাকেন।
মামলা ও পুলিশি ব্যবস্থা
পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর নানা বাদী হয়ে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে রাকিব ও শিক্ষক সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উলিপুর থানায় মামলা করেন। উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষা করার জন্য রোববার কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।



