খুলনার একটি মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগে মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ জুলাই) রাতে নগরীর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া এলাকার হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ
পরিবারের অভিযোগ, দিনমজুর বাবা ছেলেকে হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। তবে মাদ্রাসার মুহতামিম শিশুটিকে ব্যক্তিগত কাজ করানো, গরু-ছাগল চরানোসহ বিভিন্ন কাজে বাধ্য করতেন। এসব কাজে আপত্তি জানালে তাকে মারধর ও বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হতো।
শিশুটির মায়ের বর্ণনা
শিশুটির মা রত্না বেগম জানান, তার ছেলে প্রায়ই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসত। রোববার বিকেলে ছেলেকে আনতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মাদ্রাসার একটি কক্ষে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের কার্যক্রম
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মুহতামিমকে আটক করে। উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে আড়ংঘাটা থানায় শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭০ ধারায় মামলা করেন। ওই মামলায় মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য
আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর রহমান বলেন, 'শিকলবন্দী অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে।'



