চট্টগ্রামের একটি আদালত বুধবার বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় একমাত্র আসামি মনির হোসেন (৩০) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেন।
রায়ের বিবরণ
আদালত সূত্র জানায়, বিচারক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রায় পড়া শুরু করে ৩টায় শেষ করেন। মামলাটি দায়েরের ২৬ দিন এবং বিচার শুরুর আট কার্যদিবসের মধ্যে এই রায় এলো। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, “শিশু ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ। এই ধরনের অপরাধ শুধু শারীরিক ক্ষতিই করে না, বরং মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও স্বাভাবিক জীবনকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শিশুরা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব। যখন কেউ একটি শিশুর যৌন নির্যাতন করে, তখন সে শুধু সেই শিশুর অধিকার লঙ্ঘন করে না, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তিতেও আঘাত হানে।”
মামলার অগ্রগতি
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদুল আলম চৌধুরী জানান, বিচার শুরুর আট কার্যদিবসের মধ্যে আদালত রায় দিয়েছেন। আসামি রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন এবং আদালতের আদেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গত ৯ জুন ট্রাইব্যুনাল মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করে। বাকলিয়া থানা পুলিশ পাঁচ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করে ৪ জুন আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।
আসামির পরিচিতি ও গ্রেপ্তার
পুলিশ জানায়, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ার মিঞা খান নগরে ভাড়া থাকতেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পুলিশ তাকে ২১ মে বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাট এলাকা থেকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। তাকে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা আসামিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। একপর্যায়ে শত শত লোক পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পিছু হটে অবস্থান নেয়। রাত ৮টার দিকে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ একটি ভবন থেকে আসামিকে বের করে হেফাজতে নেয়। তখনও উত্তেজিত জনতা রাস্তায় অবস্থান করে একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয় এবং বিক্ষোভ চালিয়ে যায়।
মামলা ও তদন্ত
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর বাবা ২২ মে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন, যেখানে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়। বাকলিয়া থানার সাবেক ওসি মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রমাণ ও প্রতিবেদন সংগ্রহ করে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। সাক্ষীদের বিবৃতি, মেডিকেল রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হয়। তিনি আরও বলেন, মামলাটি ২২ মে দায়ের হয়, ২৫ থেকে ৩১ মে সরকারি ছুটি ছিল এবং ৪ জুন চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
অপর মামলায় মৃত্যুদণ্ড
এদিন চট্টগ্রাম আদালতে আরেকটি আলোচিত মামলার রায়ও আসে। বেলা ১টার দিকে আদালত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার মামলায় মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ড দেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় দেন।



