ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ প্রস্তাব দেন সংস্থাটির বাংলাদেশে আবাসিক প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টি।
প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার প্রস্তাব
সাক্ষাৎকালে তিনি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আইআরআইয়ের সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে স্পিকারকে অবহিত করেন।
স্পিকারের বক্তব্য
এ সময় স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার আমলে বিদেশে পাচার হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে মার্কিন সহযোগিতা কামনা করেন। শেখ হাসিনার দীর্ঘ দেড় দশকের নিপীড়নের উদাহরণ টেনে স্পিকার বলেন, ‘আয়নাঘর, গুম, খুন, বিরোধী মতের দমন-পীড়ন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।’
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বর্তমান সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংসদ সদস্যদের অগ্রগতি
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ধীরে ধীরে সংসদ কার্যপ্রণালী আয়ত্তে নিচ্ছেন উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, এরই মধ্যে ইউএনডিপি সংসদ সদস্যদের জন্য অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা। বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি জ্বালানিসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলের সহযোগিতাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এবং আইআরআইয়ের কনসালট্যান্ট অমিতাভ ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।



