চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে উপজেলা আইসিটি অফিসার (সহকারী প্রোগ্রামার) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জীবননগর আশতলাপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে।
ঘটনার বিবরণ
মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ঝিটকীপোতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি স্ত্রী নাসরিন আক্তার ও এক সন্তানকে নিয়ে জীবননগর পৌর এলাকার আশতলাপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। শুক্রবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাসার বাইরে চলে যান। পরে মাহমুদুর রহমান নিজ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে জীবননগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
পারিবারিক কলহের ইতিহাস
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদুর রহমান জীবননগর উপজেলার একজন ভালো ও হাস্যোজ্জ্বল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে প্রায়ই স্ত্রী নাসরিন আক্তার ও তার বড় ভাই জাহাঙ্গীরের ঝামেলা হতো। সম্প্রতি নাসরিন আক্তারের পরিবার মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিল। তবে মীমাংসা হওয়ায় তারা আবার একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার উজ্জ্বল হোসেন বলেন, 'স্যার খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তবে স্যারের স্ত্রী মানসিকভাবে অত্যাচার করতেন। কোনোদিন সকালের খাবার রান্না করে দিতেন না।' ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শাহিন মোল্লা একই সুরে বলেন, 'স্যার কখনো কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন না। কিন্তু তার স্ত্রী মানসিক নির্যাতন চালাতেন।'
জীবননগর উপজেলা আইসিটি টেকনিশিয়ান মো. জাহিদ জানান, স্যার তাকে প্রায়ই বলতেন, 'আমি যদি কোনোদিন মরে যাই, ওই মহিলাকে জেলে পুরে তারপর আমার লাশ মাটি দেবে।'
ময়নাতদন্ত ও তদন্ত
শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মাহমুদুর রহমানের লাশ জীবননগর থানা থেকে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গায় পাঠানো পর্যন্ত মাহমুদুর রহমানের স্ত্রী বা তার পরিবারের কাউকে থানায় দেখা যায়নি। জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান সেখ বলেন, 'খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। দুপুর ১টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।'
জানা গেছে, নাসরিন আক্তার বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর-শাশুড়ি ছাড়া আলাদাভাবে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। মাহমুদুর রহমান বিষয়টি মেনে নিতে পারতেন না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিয়ের পর থেকেই কলহ চলছিল। নাসরিন আক্তার রাগ করে প্রায়ই তার বাবার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুরে চলে যেতেন। সম্প্রতি এসব বিষয় নিয়ে কয়েকবার জীবননগর থানায় মীমাংসা হয়েছে।



