প্রসূতি ছুটি সীমিত করায় হাইকোর্টের রুল, চার সপ্তাহে জবাব চাওয়া
প্রসূতি ছুটি সীমিত করায় হাইকোর্টের রুল, চার সপ্তাহে জবাব

হাইকোর্ট নারী কর্মীদের প্রসূতি ছুটি ও সুবিধা সীমিত করাসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি আইনি বিধানের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (২৪ জুন) এ রুল দেন।

রুলের বিষয়বস্তু

রুলে ২০০৬ সালের শ্রম আইনের ৪৬(১) ও ৪৬(২) ধারা এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বিএসআর) ১৯৭(১) ও (১এ) বিধি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সব কর্মজীবী নারীর জন্য সমান মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও সুবিধা নিশ্চিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং এ বিষয়ে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিটের পটভূমি

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গত ১৫ জুন এ রিট দায়ের করেন। রিটে বলা হয়, বিএসআর-এর ১৯৭ বিধি অনুযায়ী একজন নারী কর্মচারী পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুবার প্রসূতি ছুটি পেতে পারেন। অন্যদিকে শ্রম আইনের ৪৬(১) ধারা অনুযায়ী কোনো নারী কর্মী কোনো প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ছয় মাস চাকরি না করলে তিনি প্রসূতি ছুটি পান না। ৪৬(২) ধারা অনুসারে, প্রসবের সময় দুই বা ততোধিক সন্তান জীবিত থাকলে ছয় মাসের বেশি চাকরি করলেও নারী কর্মী প্রসূতি ছুটি পান না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনজীবীর বক্তব্য

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, “সার্বিকভাবে দুটি বিধানের মূল কথা হচ্ছে তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে প্রসূতি ছুটি নেই। এমনকি শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী ছয় মাসের কম চাকরি করলে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও কোনো নারী কর্মী মাতৃত্বকালীন কোনো ছুটি পাবেন না, যা খুবই অমানবিক। একজন নারী প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে প্রসবজনিত শারীরিক ঝুঁকি, চিকিৎসা, বিশ্রাম ও নবজাতকের যত্নের প্রয়োজনীয়তা একই। ফলে শুধু সন্তানের সংখ্যার ভিত্তিতে প্রসূতিকালীন ছুটি বা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক, অযৌক্তিক ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শুনানি ও আদেশ

রিটের শুনানি শেষে আদালত সোমবার এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ইশরাত হাসান নিজেই। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দীন মো. হানিফ।

আদালত মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, নারী ও শিশুবিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব ও স্বাস্থ্যসচিবসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছেন।