স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রোববার সংসদে বিরোধী দল জামায়াতের সাংসদদের আদ্-দীন হাসপাতালের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সমালোচনা করে বলেছেন, ‘আপনারা কেন প্রতিটি বিষয়কে দলীয় আদর্শের সাথে যুক্ত করেন? আদর্শের নামে দেশের বিরোধিতা করা যায় না, যা আপনারা ১৯৭১ সালে করেছিলেন।’ তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন।
লাইসেন্স স্থগিতের কারণ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি জনগণের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের দায়িত্বে আছি। আমার সন্তানদের চিকিৎসা ছাড়া মরতে দেওয়া যায় না।’ তিনি উল্লেখ করেন, আদ্-দীন হাসপাতাল শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি নিয়েছিল। তিনি ছয় শিশুর মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আদ্-দীন হাসপাতালে অবহেলায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।
জামায়াত সাংসদের দাবি খণ্ডন
জামায়াত সাংসদদের দাবির জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা (জামায়াত সাংসদ) বলেন আদ্-দীন হাসপাতাল ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় ডায়ালাইসিস সেবা দেয়। এটা সত্যি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা জিজ্ঞেস করে, মাথা ব্যথা করলে কি মাথা কেটে ফেলতে হয়? আমি বলি, না, তা করা উচিত নয়। কিন্তু যারা মাথা কেটে ফেলে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
ইউনাইটেড হাসপাতালের ঘটনার সঙ্গে তুলনা নাকচ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদ্-দীন হাসপাতালের ঘটনার সাথে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ইউনাইটেড হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের তুলনা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যু একটি দুর্ঘটনা ছিল, কিন্তু আদ্-দীন হাসপাতালের ঘটনা চরম অবহেলা।
ঘটনার বিবরণ
সাখাওয়াত হোসেন আদ্-দীন হাসপাতালের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে অভিযোগ করেন, নবজাতকরা জানালাবিহীন একটি কক্ষে এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ করে দেওয়ার পর অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিল। ‘শিশুরা নিঃশ্বাস নিতে হাঁপাচ্ছিল, আর ১৬-১৭ জন মা অসহায়ভাবে ছুটোছুটি করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারা কার্বন ডাই-অক্সাইড জমে মারা যায়। এমনকি হাসপাতালের মালিকও ঘটনার পর সেখানে আসেননি,’ তিনি দাবি করেন।
হাসপাতালের নিরাপত্তা মান নিয়ে প্রশ্ন
মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালের পাশে নিরাপত্তা মান লঙ্ঘন করে একটি বেকারি স্থাপন করা হয়েছে, যা গুরুতর অগ্নি ঝুঁকি তৈরি করেছে। ‘সেখানে আগুন লাগলে কোনো রোগী বা পরিচর্যাকারী পালাতে পারতেন না। মালিকের অবহেলার কারণেই এটা ঘটেছে,’ তিনি বলেন।
সরকারের অবস্থান
সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, তারা হাসপাতালের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল না করে শুধু স্থগিত করেছেন। ‘আমরা মাথা কাটতে বলিনি, শুধু লাইসেন্স স্থগিত করেছি। সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। কিন্তু আপনাদের দলীয় স্বার্থে রাজনীতি করা উচিত নয়,’ তিনি বিরোধী সাংসদদের উদ্দেশে বলেন।



