ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে উত্তরের চার জেলা নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানিয়েছেন, এসব জেলায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং টানা বৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগেও বন্যার শঙ্কা রয়েছে।
তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে। শনিবার বিকাল ৩টায় লালমনিরহাটে তিস্তা ব্যারাজ (ডালিয়া) পয়েন্টে নদীটির পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল, যা আগের দিন একই সময়ে ছিল ৪১ সেন্টিমিটার নিচে। শনিবার সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচে ছিল বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু ফসলের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে।
সিলেটে রেকর্ড বৃষ্টিপাত
সিলেটের নিম্নাঞ্চলগুলোয় আকস্মিক বন্যার শঙ্কার মধ্যে সিলেটে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪১ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে স্বল্প সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। সিলেটের আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪০.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৩৫.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আগামী তিন দিনের পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এমন বৃষ্টিপাত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। আগামী তিন দিন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ভারতের মেঘালয়সহ বিভিন্ন রাজ্যে কয়েক দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত চলছে, যার ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় নদীগুলোর পানি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে থাকলেও আগামী তিন দিন ভারতে ভারি বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে, যা সিলেটের নদ-নদীকে বিপৎসীমা অতিক্রমের বড় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
চার বিভাগে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস
বর্ষার প্রভাবে দেশের চার বিভাগ রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটের অনেক জায়গায় ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় আবহাওয়ার বুলেটিনে জানানো হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের অনেক জায়গায় ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা আরও অন্তত তিন দিন স্থায়ী হতে পারে। আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, এই বৃষ্টিপাতের কারণে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং দেশে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
১০ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা
আবহাওয়া অধিদপ্তর ১০ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস দিয়েছে এবং বজ্রপাতের বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা-ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। শনিবার বিকাল ৩টায় অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।



