শিক্ষার মানোন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি: মন্ত্রী
শিক্ষার মানোন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা প্রশাসন এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মনে করছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। তিনি বলেছেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তার শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তির ওপর।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীর বক্তব্য

সোমবার (৬ জুলাই) টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা হলরুমে আয়োজিত “প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষকগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়” প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে এবং নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সদ্য পাস হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা বাজেট ও জিডিপি বরাদ্দ

মন্ত্রী জানান, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে—যা গত অর্থবছরে ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার মান ও অভিভাবকের ভূমিকা

মন্ত্রী বলেন, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে সন্তানদের যুগোপযোগী সুশিক্ষার বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। তিনি বলেন, জনগণ সরকারি প্রাইমারি এবং হাই স্কুলকে তাদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন মনে করে এবং প্রাইমারি ও হাই স্কুলের শিক্ষার মান উন্নত হলে জাতির শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষকদের প্রতি হুঁশিয়ারি

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সকলের জন্য সমন্বিত কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সরকারি অনেক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এসবের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত এত সুযোগ-সুবিধার পরও যদি শিক্ষার মানোন্নয়ন না হয়, যদি কোনো শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল না করে, যদি কোনো শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে, কোনো শিক্ষার্থী যদি মাদকাসক্ত হয়, তাহলে এর দায়দায়িত্ব শিক্ষকগণকে নিতে হবে মর্মে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার পরিকল্পনা

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, প্রতি সপ্তাহে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষার মান বিষয়ক পর্যালোচনা সভা এবং প্রতি মাসে অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষার সার্বিক অবস্থা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা করে এর ফলাফল তাকে অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে নিজে প্রতি তিন মাসে একবার তার নির্বাচনী এলাকা বাসাইল-সখিপুরের সকল প্রাইমারি ও হাইস্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় করবেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।

শিক্ষার্থীদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা

তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ এবং আধুনিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।