শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধে একটি ‘রেগুলেশন’ বা আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত।
শিক্ষকতার পেশা বনাম রাজনীতি
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকেরা শিক্ষকতার পেশায় থাকবেন আর নির্বাচনে গেলে তাঁরা রাজনীতির পেশায় যাবেন—দুটি একসঙ্গে চললে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ
শিক্ষকদের নির্বাচনমুখী হওয়া প্রসঙ্গে নিজস্ব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চার হাজারের বেশি চেয়ারম্যান পদ ও ৪৯৩টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অংশ নেন। এতে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্বাচন কমিশনের এমন একটি ফ্রি রেগুলেশন বা নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত; যেন শিক্ষকেরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে না যান। যেতে হলে তাঁরা যেন চাকরি ছেড়ে দিয়ে যান। শিক্ষকদের পেছনে রাষ্ট্র যে বিনিয়োগ ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছে, তা যেন দেশের সুন্দর জাতি গঠনে প্রপারলি (সঠিকভাবে) কাজে লাগে।’
জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট ঘোষণা
এর আগে বাংলাদেশে ‘জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট (এসটিজি) ও মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্টের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই), ইউনেসকো, ইউনিসেফ, এডিবি, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট (এসটিজি) ও মাল্টিপ্লায়ার মিলে মোট ৯৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্র্যান্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
এইচএসসি পরীক্ষা ও ড্রপ আউট প্রসঙ্গে
আজ শুরু হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে আমাদের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমাদের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ও মনিটরিং সেল রয়েছে, ফলে এখন আর প্রতিটি কেন্দ্রে গিয়ে পাহারা দিতে হচ্ছে না। শিক্ষকেরা সজাগ, অভিভাবকেরা সচেতন ও পুলিশ বিভাগ বডি–ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছে। শিক্ষার্থীরাও সচেতন, তারা এখন আর কোনো “আনফেয়ার” (অসদুপায়) অবলম্বন করবে না বলে আমাদের বিশ্বাস।’
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের একটি অংশের ঝরে পড়ার (ড্রপ আউট) হার বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে এসএসসি বা এইচএসসির পর মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া বা ছেলেদের কাজে চলে যাওয়ার একটি স্বাভাবিক গতি ছিল। আমরা এই ড্রপ আউটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আগামী দিনে ক্লাসরুমের শিক্ষা ও শিক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে সিলেবাস সুন্দরভাবে সাজানো হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ইমানুয়েল আব্রিউ, ইউনেসকো বাংলাদেশের প্রতিনিধি সুসান ভাইজ, এডিবির বাংলাদেশ প্রতিনিধি (অফিসার ইনচার্জ) আকিরা মাতসুনাগা ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের হিউম্যান ক্যাপিটাল টিমের লিডার গোলাম কিবরিয়াসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



