শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এখন থেকে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে, যা আগে আলাদা আলাদা হতো। এছাড়া মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের যে বিষয়গুলো কমন, সেগুলোতেও একই প্রশ্ন করা হবে। তিনি বলেন, 'আমরা চাই না শিক্ষার মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকুক।' মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নে তাতে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে মন্ত্রীর বক্তব্য
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ মোহাম্মদ শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সাংসদ ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
শিক্ষা খাতে সংস্কার ও বাজেট
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতে উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কাজ করছেন। সিলেবাস ও কারিকুলাম ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং আনন্দময় শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিশুদের জন্য খেলাধুলা, নীতি-নৈতিকতাসহ বিভিন্ন বিষয় শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমাদের দেশে জনসংখ্যা বেশি, এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে, যার জন্য কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট জিডিপির ৫% পর্যন্ত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, 'আমরা কখনো ভাবতে পারিনি প্রধানমন্ত্রী বলবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট জিডিপির ৫% পর্যন্ত দেব। শুধু বলেননি, আমাকে নির্দেশনাও দিয়েছেন কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে। আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, উনি ৫% চাইলেন কিন্তু আপনি নিলেন না কেন। ৫% জিডিপি বাজেট করার সক্ষমতা এই মুহূর্তে আমাদের ছিল না। ক্রমান্বয়ে আমরা ধাপে ধাপে বাজেট বাড়াব।'
অনুষ্ঠানের অন্যান্য কার্যক্রম
অনুষ্ঠানের শুরুতে পায়রা উড়িয়ে ও কেক কেটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সূচনা করেন শিক্ষামন্ত্রীসহ উপস্থিত অতিথিরা। পরে অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে শিক্ষা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে অবদানের জন্য ৪৯ জন শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং ৩ শিক্ষককে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ প্রদান করা হয়।



