বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ডালভাঙা এলাকায় সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চার্জে থাকা অটোরিকশার বিদ্যুৎ–সংযোগ খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন। নিহতরা হলেন মো. বেল্লাল (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী মোসা. কমলা (৪০)। তাঁদের তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে আরিফাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছে এবং বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
স্থানীয় ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, বেল্লাল বাড়িতে একটি গরুর খামার নির্মাণ করছিলেন, যা প্রায় শেষের দিকে। খামারের ঘরের টিন কেনার জন্য তিনি নিজের অটোরিকশা নিয়ে বাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। এরপর বাড়িতে থাকা অটোরিকশাটির চার্জের সংযোগ খুলতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাঁকে উদ্ধার করতে স্ত্রী কমলা ও বড় মেয়ে আরিফা এগিয়ে গেলে তারাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
প্রতিবেশী মোসা. ফিরোজা বলেন, "সকালে চার্জে থাকা অটোরিকশা আনতে গিয়ে প্রথমে বেল্লাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। তাঁকে ছাড়াতে গিয়ে স্ত্রী ও মেয়েও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। খবর পেয়ে এলাকাবাসী মিলে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসক জানান, বেল্লাল ও তাঁর স্ত্রী কমলার মৃত্যু হয়েছে।"
হাসপাতাল ও পুলিশের বক্তব্য
বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবেশীরা ওই বাড়ির বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আহতদের উদ্ধার করে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তা অপূর্ব কুমার চৌধুরী জানান, সকালে বেল্লাল ও কমলা নামের দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পায়ে জখম হয়ে গুরুতর আহত মেয়ে আরিফাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখন সুস্থ আছেন।
নিহত বেল্লালের ভগ্নিপতি মো. কবির বলেন, "স্থানীয় মানুষের মাধ্যমে খবর শুনে আমি হাসপাতালে এসে দেখি বেল্লাল ও তাঁর স্ত্রী কমলা মারা গেছেন। তাঁদের বড় মেয়েও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছে। তবে মেয়েকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, এখন সুস্থ আছে।"
আইনি প্রক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী–স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।



