বাগেরহাটের কচুয়ায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা সামাজিক সালিসের মাধ্যমে মাত্র ২০ হাজার টাকায় মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মানফুজুর রহমানের উপস্থিতিতে এই সালিস অনুষ্ঠিত হয়। সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
গত শনিবার মাদ্রাসার টিফিনের সময় পার্শ্ববর্তী একটি দোকানের মালিক হাকিম সরদার চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। অন্যান্য শিশুদের উপস্থিতিতে শিশুটি সে যাত্রায় রক্ষা পায় এবং বাড়িতে ফিরে মাকে বিষয়টি জানায়। ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত সাবেক ইউপি সদস্য মো. আরিফ হুসাইন সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক সহায়তার নামে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
সালিসের ঘটনা
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়োজিত সেই সালিসে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে ওলামা দল নেতা মানফুজুর রহমান শিশুটির কাছে ঘটনার বর্ণনা শুনতে চান। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত হাকিম সরদার নিজের অপরাধ স্বীকার করে সালিসদারের পা জড়িয়ে ক্ষমা চান। সালিসের জের ধরে এক পর্যায়ে অভিযুক্তের স্বজনদের সঙ্গে উপস্থিত লোকজনের সংঘর্ষ ও হট্টগোল শুরু হলে সালিস পণ্ড হয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই সালিস পরিচালনা করা মানফুজুর রহমান এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভূমিকা
স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, কচুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার জাহিদের নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় এই মীমাংসার চেষ্টা চলছে। যদিও সরদার জাহিদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারটিকে মামলা না করে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মেনে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
শিশুর অবস্থা
এ ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিশুটি আর মাদ্রাসায় যাচ্ছে না। এমনকি সালিসের ভিডিও ধারণকারীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য
কচুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রাশিদ জানান, ভুক্তভোগী পরিবার এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। সালিস ঠেকাতে পুলিশের ব্যর্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিবারটি আত্মীয়স্বজনের চাপের কারণে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে। অথচ আইন অনুযায়ী ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় কোনো ধরনের সালিস করার সুযোগ নেই।



