শিশু আসমা হত্যা মামলার রায় আবারও পিছিয়ে ১ জুলাই নির্ধারণ
শিশু আসমা হত্যা মামলার রায় পিছিয়ে ১ জুলাই

নোয়াখালীর চাটখিলে আলোচিত শিশু আসমা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় দ্বিতীয় দফায় পিছিয়েছে। আগামী ১ জুলাই রায় ঘোষণার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। বুধবার (২৪ জুন) সকালে নোয়াখালীর বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এ আদেশ দেন।

চার বছর ধরে বিচার কার্যক্রম

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীনে গঠিত বিশেষ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ চার বছর ধরে মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলে আসছে। এর আগে গত ২৪ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও বিচারক তা এক মাস পিছিয়ে ২৪ জুন নির্ধারণ করেছিলেন। আজ আবারও তা পিছিয়ে ১ জুলাই ধার্য করা হল।

ঘটনার বিবরণ

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ চাটখিল উপজেলার মেঘা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু আসমা আক্তার। ঘটনার ৯ দিন পর একই বাড়ির বাসিন্দা বাবলু মিয়ার ছেলে শাহাদাতকে (২২) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে শাহাদাত স্বীকার করেন, ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি আসমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিক্রিয়া

আসমার বাবা মো. শাহজাহান বলেন, 'আমার নিষ্পাপ মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি। আমি আদালতের কাছে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই। যেন আর কোনো বাবার বুক এভাবে খালি না হয়।'

আইনজীবীদের বক্তব্য

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা বলেন, '২৪ মে রায় হওয়ার কথা থাকলেও আদালত তা পিছিয়ে ২৪ জুন করেছিলেন। আজ দ্বিতীয় দফায় তারিখ পরিবর্তন করে ১ জুলাই করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী ১ জুলাই আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি চূড়ান্ত ন্যায়বিচার পাবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি সেলিম শাহী বলেন, 'মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অত্যন্ত জোরালো। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি এবং আশা করি আদালত আসামিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবেন।'