পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তনে ৫ বছর কারাদণ্ডের খসড়া আইন অনুমোদন
পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তনে ৫ বছর কারাদণ্ডের খসড়া আইন অনুমোদন

মন্ত্রিসভা 'দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্স—সংশোধন) অ্যাক্ট'-এর খসড়া অনুমোদন করেছে, যেখানে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল অবৈধভাবে পরিবর্তনের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, পাবলিক পরীক্ষাকে ঘিরে সংগঠিতভাবে জালিয়াতি বা চক্র গঠন করলেও কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত

বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিদ্যমান আইনের সময়োপযোগী সংশোধন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলো নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সনদ প্রস্তুত এবং বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে ১৯৮০ সালে বর্তমান আইন প্রণীত হয়। তবে বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান আইনের ধারাগুলো সময়োপযোগী নয়। তাই পাবলিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ডিজিটাল পদ্ধতি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপরাধ ও দণ্ড আইনের আওতায় আনতে সংশোধন আনা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন

বৈঠকে 'বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬'-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১ সালে গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও কার্যকর হয়নি। বর্তমানে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়োগ ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু প্রক্রিয়াধীন। বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবর্তন করে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, কারিগরি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, জ্ঞান চর্চা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জুয়া প্রতিরোধ আইন

বৈঠকে 'জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬'-এর খসড়াও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। জুয়ার বিস্তারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ হওয়ায় অনলাইন ও অফলাইন নানা ধরনের জুয়া কার্যক্রম বিস্তার লাভ করছে। ফলে জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধপ্রবণতা হ্রাস, আর্থসামাজিক ও মানসিক ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ করতে 'দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭'-এর সংশোধন করে খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়ায় জুয়া খেলা, জুয়ার স্থান, জুয়ার সামগ্রী, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ, বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ বিভিন্ন বিষয়ের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অপরাধের প্রকৃতিভেদে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন

বৈঠকে 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মাদক পাচার ও অপব্যবহারের পরিবর্তিত ধরন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার এবং বিচারিক কার্যক্রমে উদ্ভূত সমস্যা নিরসনে আইনের কিছু ধারা সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়ায় বিচারিক কার্যক্রম জোরদার করতে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা, সাইবার স্পেসে অপরাধ দমনে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে আন্তসংস্থা সমন্বয়, এবং মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণে ডগ স্কোয়াড গঠনের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।