লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি নামে একটি বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস থেকে মেহেদী হাসান (১৪) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত আটটার দিকে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর আগে, ওই দিন বিকেলে মেহেদীর মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন যে তাকে ‘পিটিয়ে হত্যা’ করা হয়েছে।
নিহত শিক্ষার্থীর পরিচয়
মেহেদী হাসান উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুত গ্রামের জিয়া উদ্দিন জিয়ার ছেলে। সে ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে ছাত্রাবাসের জানালার গ্রিলে মেহেদীর লাশ ঝুলছিল। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, মেহেদী আত্মহত্যা করেছে। তবে মেহেদী হাসানের বাবা জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে সুস্থ-স্বাভাবিক ছিল। তার আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণ ছিল না। আমরা ধারণা করছি, তাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, পরিবারের দাবি মেহেদীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই খবরে রাত ৮টার পর থেকে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির সামনে লোকজন জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গেট ও অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করে এবং ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে।
প্রশাসনের ব্যবস্থা
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাইক হাতে উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাইকে বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। তারা তদন্ত করে ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন করবেন। সবাইকে শান্ত থাকার আহবান জানান তিনি।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।



