বগুড়ায় জমি বিরোধে বিএনপি নেতার হামলায় জামায়াত নেতার মৃত্যু
বগুড়ায় জমি বিরোধে বিএনপি নেতার হামলায় জামায়াত নেতার মৃত্যু

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা চাচার মারপিটে আহত জামায়াতে ইসলামীর নেতা সম্রাট হোসেন আকন্দ বাপ্পা (৪২) মারা গেছেন। নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। এর আগে এ ঘটনায় মামলায় পুলিশ তার চাচা বিএনপি নেতা আবদুল করিম আকন্দকে স্ত্রীসহ গ্রেফতার করেছে।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, নিহত সম্রাট হোসেন আকন্দ বাপ্পা বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের ছেলে। তিনি দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তার চাচা আবদুল করিম আকন্দ একই গ্রামের মৃত নজির উদ্দিন আকন্দের ছেলে ও ইউনিয়ন বিএনপির দফতর সম্পাদক। রফিক আকন্দের সঙ্গে জমিজমার মালিকানা নিয়ে ছোট ভাই বিএনপি নেতা আবদুল করিম আকন্দের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

এর জের ধরে গত ২৫ জুন দুপুরে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আবদুল করিম লোকজন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা চালান। এ সময় বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলে জামায়াত নেতা সম্রাট হামলার শিকার হন। আহত হন তার বাবা রফিক আকন্দ (৬৮) ও মা জোসনা বেগম (৬২)। আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও গ্রেফতার

এ হামলার ঘটনায় বাপ্পার মা জোসনা বেগম ২৭ জুন দুপচাঁচিয়া থানায় বিএনপি নেতা আবদুল করিম আকন্দসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পুলিশ ১ জুলাই রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দাড়ালকুল গ্রাম থেকে আবদুল করিম আকন্দ ও তার স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেফতার করে।

চিকিৎসা ও মৃত্যু

এদিকে, বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে জামায়াত নেতা সম্রাটকে ঢাকায় হেলথ কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তিনি মারা যান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুপচাঁচিয়া থানার ওসি তাজমিলুর রহমান জানান, নিজেদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধে চাচা বিএনপি নেতা ও ভাতিজা জামায়াত নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুরে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে নিহত জামায়াত নেতা সম্রাট হোসেন আকন্দ বাপ্পার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগের দায়ের করা হামলার মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।