শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়াকে ছুটি না দেওয়ায় সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন। গত ২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া জানান, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে দেরিতে আসেন এবং প্রায়ই কোনো কারণ ছাড়াই চলে যান। তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২ জুলাই সকালে দেলোয়ার হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করেন। ওই দিন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয় পরিদর্শন ও জরুরি সভা থাকায় প্রধান শিক্ষক তাকে ছুটি না দিয়ে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দেলোয়ার হোসেন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে মাটিতে ফেলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। অন্য শিক্ষকরা পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া বলেন, “সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার দীর্ঘদিন ধরে সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন না। তাকে অনেকবার অবহিত করেছি। গত বৃহস্পতিবার তিনি ছুটি চাইলে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং জরুরি সভা নির্ধারিত থাকায় তাকে ছুটি দেইনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হঠাৎ করেই আমাকে মারধর শুরু করেন। এ বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করে সখিপুর থানা ও ভেদরগঞ্জ ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছি।”
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমার সন্তান অসুস্থ থাকায় আমি ছুটি চেয়েছিলাম, কিন্তু উনি বলেন ছুটি দেওয়া যাবে না। বিরক্ত হয়ে হাতাহাতি হয়ে যায় তখন মাথা ঠিক ছিল না। তিনি বহুদিন ধরে আমার প্রতি অত্যাচার করছিলেন। তার কারণে আমার পারিবারিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তার বিচার চাই।”
প্রশাসনের পদক্ষেপ
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুজাহিদ বলেন, “দুই শিক্ষকের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছি। এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুবকর সিদ্দিক বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



