আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মীর আহমাদ বিন কাসেমের জেরা: 'আত্মগোপনে ছিলাম না, গুমও হননি'
ট্রাইব্যুনালে মীর আহমাদ বিন কাসেমের জেরা: 'আত্মগোপনে ছিলাম না'

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মীর আহমাদ বিন কাসেমের জেরা: 'আত্মগোপনে ছিলাম না, গুমও হননি'

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) স্পষ্টভাবে বলেছেন, 'আমি আত্মগোপনে ছিলাম—এ কথা সত্য নয়।' তিনি আরও দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, 'কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আমাকে গুম করেনি—এ কথাও সত্য নয়।' এই বক্তব্য তিনি রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ দিয়েছেন, যেখানে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি তাকে জেরা করেন।

মামলার পটভূমি ও জেরার প্রক্রিয়া

এই জেরা করা হয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায়। মামলায় বর্তমান ও সাবেক ১২ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জন আসামি রয়েছেন। মীর আহমাদ বিন কাসেম এই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে গত ২১ জানুয়ারি মাসে জবানবন্দি দেন। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে তিনি ট্রাইব্যুনালে আসতে পারেননি, ফলে এত দিন পর রোববার তাকে প্রথম দিনের মতো জেরা করা হয়।

আগামী মঙ্গলবার তাকে দ্বিতীয় দিনের মতো জেরার দিন ধার্য করা হয়েছে, যা মামলার অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে মীর আহমাদ বিন কাসেম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, এবং তার বাবা মীর কাসেম আলী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন, যিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আসামিদের অবস্থান ও পলাতকদের তালিকা

টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা এই মামলার ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জন ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে আছেন। রোববার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। সাবজেলে থাকা আসামিরা হলেন—ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম ও কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

এ মামলার অপর সাত আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার তৎকালীন প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ (পরে আইজিপি হন), এম খুরশীদ হোসেন ও মো. হারুন অর রশিদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম। এই পলাতক আসামিদের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

এই মামলাটি বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুমের মতো গুরুতর অভিযোগগুলোর বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। মীর আহমাদ বিন কাসেমের জেরা এবং আসামিদের অবস্থান মামলার ফলাফলের দিকে নজর রাখছে দেশবাসী।