টিউলিপ সিদ্দিকের ফ্ল্যাট জালিয়াতি মামলায় আদালতের গেজেট প্রকাশের নির্দেশ
রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ফ্ল্যাট জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনকে আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
দুদকের প্রতিবেদন ও আদালতের সিদ্ধান্ত
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহম্মেদ সালাম বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছিলেন আদালত। ওই দিন তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। আজ তাঁদের গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে দুদক। প্রতিবেদনে আসামিদের খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন আদালত। ২৯ মার্চ এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, রাজধানীর গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ফ্ল্যাট জালিয়াতির অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল টিউলিপ সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
অভিযোগে বলা হয়, টিউলিপ, মোশাররফ ও খসরুজ্জামান পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর বিশ্বাস ভঙ্গ ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে গুলশান-২-এ ২ হাজার ৪৩৬ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট দখলে নেন ও পরে রেজিস্ট্রি করেন, যা দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিল
তবে দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর তদন্ত শেষে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ১৩ জানুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দেন। এই মামলাটি আইন বিভাগের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
আদালতের এই নির্দেশনা আসামিদের আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আসামিদের হাজির হওয়ার জন্য সরকারি নোটিশ জারি করা হবে, যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।



