লক্ষ্মীপুরে শিশুসহ নারী কারাগারে, জেলগেটে আরও দুই সন্তান
লক্ষ্মীপুরে শিশুসহ নারী কারাগারে, জেলগেটে দুই সন্তান

লক্ষ্মীপুরে একটি ফৌজদারি মামলায় ফারহানা আক্তার শিল্পী নামে এক নারীসহ দুইজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এরমধ্যে শিল্পীর সঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছে তার ১৫ মাসের শিশু সন্তানকেও। অন্যদিকে স্কুলড্রেস পরিহিত তার আরও দুই সন্তান গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল জেলগেটে।

আদালতে আত্মসমর্পণ ও জামিন না মঞ্জুর

সোমবার (১১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী সদর আদালতে আসামি শিল্পী আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে ওই নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুপুরের দিকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালত থেকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়, সাথে ছিল তার দুধের শিশু সিয়াম।

আইনজীবীদের বক্তব্য

সোমবার (১১ মে) বিকেল ৫টার দিকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত সদরের পেশকার দেলোয়ার হেসেন বলেন, সিআর ৫৬৫ মামলায় আসামি শিল্পিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুপুরে আদালতের বিচারক শাহ জামাল এ নির্দেশ দেন। আমরা আসামিদের আদালতের পুলিশ হাজতে দিয়েছি। পরে বাচ্চাকে কারাগারে নিয়েছে নাকি বাসায় নেওয়া হয়েছে তা জানি না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিশু সন্তানসহ এক নারীকে কারাগারে নেওয়ার বিষয়টি লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল বলেন, শিশু সিয়ামকে নিয়ে একটি মামলায় তার মা শিল্পী এখন কারাগারে আছেন। বিকেলে তাদেরকে কারাগারে আনা হয়েছে।

জেলগেটে অপেক্ষমান শিশু

এদিকে শিল্পীকে কারাগারে নেওয়ায় পর স্কুলড্রেস পরিহিত তার আরও দুই শিশু সন্তান শিপন হোসেন (১০) ও তামান্না আক্তার (৮) কারাফটকে দাঁড়িয়ে ছিল। প্রিজনভ্যানের ভেতর মায়ের কোলে থাকা শিশুটি ও জেলগেটে দাঁড়িয়ে থাকা দুই সন্তানের ছবি ফেসবুকে দিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এরসঙ্গে ঘটনার দিনের একটি ভিডিও তিনি পোস্ট করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনজীবী স্বপন বলেন, দুধের শিশু সিয়ামসহ শিল্পী এখন কারাগারে রয়েছে। তার অন্য দুই সন্তান পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিপন হোসেন (১০) ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তামান্না আক্তার (৮) জেলগেটে গিয়ে মায়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। তারা শহীদ স্মৃতি আদর্শ একাডেমির শিক্ষার্থী। তাদের পরীক্ষা চলমান।

আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন স্ট্যাটাসটিতে (হুবহু) লিখেন, ‘মায়ের সাথে দুগ্ধজাত ১ বছরের শিশুটিও হাজতে। অভিযোগ লোহার রড দিয়ে বাড়ি, এমসি নীল। আরও দুটি শিশু বাচ্চার পরীক্ষা চলমান। ৪৯৭ ও কাজ হয়নি, সদরে স্বাধীন ব্যবস্থার সুফল পাচ্ছি। মায়ের জন্য দুটি বাচ্চা জেল খানার সামনে দাঁড়িয়ে’। ভিডিও’র বিশ্লেষণে তিনি লিখেছেন, ‘দেখুনতো গোলাপি জামা পরা মেয়েটির হাতে কী লোহার রড আছে? সেতো মার খাচ্ছে, অথচ বলা হচ্ছে সে মেরেছে এবং জেলে’।

আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী রাকিবুল হাসান তামিম বলেন, এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে শিল্পী লোহার রড দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাত করেছে। এতে বাদীর মাথা ফেটে মগজ বের হয়ে যায়। এজাহার দেখে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট তলব করে। বাদী মেডিকেল সার্টিফিকেট আদালতে জমা দিয়েছে। তবে সেখানে সাধারণ জখম উল্লেখ করেছে চিকিৎসকরা। এতে ঘটনাটি জামিনযোগ্য হলেও আদালত শিল্পিসহ দুইজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে। শিল্পীর সঙ্গে তার দুধের শিশুও এখন কারাগারে।

ভাইয়ের বক্তব্য

আসামি শিল্পীর ভাই মো. ইউসুফ বলেন, সাজানো একটি মামলায় দুধের শিশু নিয়ে আমার বোনকে কারাগারে যেতে হয়েছে। তার আরও দুই শিশু মায়ের জন্য কান্না করছে।

মামলার বিবরণ

এজাহার সূত্র জানায়, মামলার বাদী মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের সাহাপুর এলাকার মৃত ছিদ্দিক উল্যাহ ভূঁইয়ার ছেলে। ১৫ এপ্রিল তার ওপর হামলার অভিযোগ এনে তিনি অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী সদর আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে প্রতিবেশী শিল্পীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামি করা হয়। শিল্পী পৌরসভার সাহাপুর এলাকার ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। মামলায় উল্লেখ করা হয় শিল্পী রড দিয়ে বাদীর মাথার পেছনে আঘাত করে। এতে বাদীর মাথার হাড় ভেঙে মগজ বের হয়ে যায়। অন্যদিকে এজাহারে গুরুতর আঘাত উল্লেখ করা হলেও লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে (এমসি) আঘাতের ধরণ সিম্পল (সাধারণ) বলে উল্লেখ করা হয়েছে।