হাইকোর্ট মঙ্গলবার জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর থানায় দায়ের করা দুই হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন। আইনজীবীরা বলছেন, তার মুক্তিতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।
আদালতের আদেশ
বিচারপতি কে এম জাহিদ সারোয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পৃথক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। জামিন আবেদনে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও মোতাহার হোসেন সাজু এবং অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
গ্রেপ্তার ও মামলা
খায়রুল হককে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই তার ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জুলাই আন্দোলনের সহিংসতায় যুবদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম আহাদের হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়, যা যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হয়েছিল। এই মামলাসহ তার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা ছিল।
২৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন শাহবাগ থানায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি রায়ে জালিয়াতির অভিযোগ এনে মামলা করেন। একই ধরনের অভিযোগে ২৫ আগস্ট ফতুল্লা থানা ও বন্দর থানায় আরও দুটি মামলা দায়ের হয়। এর আগে ৪ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন প্লট জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে।
পূর্ববর্তী জামিন ও আপিল
নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে খায়রুল হক হাইকোর্টে জামিন চাইলে আদালত আবেদনের ওপর রুল জারি করে। ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি করে চার মামলায় তাকে জামিন দেয়। ১১ মার্চ দুদক মামলায়ও তিনি জামিন পান।
রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ ২৮ এপ্রিল আবেদন খারিজ করে দেয়।
নতুন মামলায় জামিন
এদিকে জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর থানার আরও দুই হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি পুনরায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন, যা শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার জামিন মঞ্জুর করে।
পটভূমি
খায়রুল হক ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করে ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যান। পরে তিনি তিন মেয়াদে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।



