গাজীপুরের কাপাসিয়ায় তিন শিশু ও তাদের মা সহ পাঁচজনকে গলাকেটে হত্যার মামলায় মূল অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১১ মে) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জান্নাতুন নাইম এ আদেশ দেন।
ঘটনার বিবরণ
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার রাউত্কোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), তাদের সন্তান মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল (২২)।
মামলা ও তদন্ত
শনিবার হত্যার ঘটনায় ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করে শারমিনের বাবা শাহাদাত মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ফোরকান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার হাসান মোল্লার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সবাইকে স্বাভাবিকভাবে দেখা গেছে। তবে শনিবার সকালে হঠাৎ পাঁচজনের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ফোরকান মিয়া পাঁচজনকে গলাকেটে হত্যা করেছেন। পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
নিহতের পরিবারের বক্তব্য
শারমিনের বাবা শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনার আগের রাতে শারমিন ফোন করে জানায়, ২৪ মে বাড়ি চলে আসবে। পরদিন সকালে শারমিনের বাসার খোঁজ নিতে বলেন ফোরকানের ভাই জব্বার মোল্লা। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি পুরো পরিবার শেষ হয়ে গেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।



