ফরিদপুরে এক কিশোরীকে টিকটক তারকা ও মডেল বানানোর আশ্বাস দিয়ে পতিতালয়ে বিক্রি এবং জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করার দায়ে আদল কাজী (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুটি ধারায় মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণা
সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আদল কাজী পলাতক ছিলেন। তিনি ফরিদপুর সদরের পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার মৃত ইমান কাজীর ছেলে।
মামলার বিস্তারিত
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১০ ধারায় আদল কাজীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া একই আইনের ১১ ধারায় তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সাত বছর কারাভোগ করতে হবে।
মামলার নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ২০ জুলাই ১৬ বছরের এক কিশোরীকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে ও টিকটক মডেল বানানোর প্রলোভন দিয়ে বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার একটি পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়। সেখানে আটকে রেখে তাকে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছিল।
উদ্ধার ও গ্রেফতার
ঘটনার খবর পেয়ে ২০২১ সালের ২৭ জুলাই রাতে র্যাবের একটি দল রথখোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং আদল কাজীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় একই রাতে ফরিদপুর র্যাব ক্যাম্পের ডিএডি মো. আবুল বাশার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আদল কাজীর পাশাপাশি সুমন ওরফে রাসেল নামে আরেক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়।
তদন্ত ও অভিযোগপত্র
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই শ্রী প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আদল কাজী একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের সদস্য এবং তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের সংগ্রহ করে দেহব্যবসায় বাধ্য করতেন। তবে অপর আসামি সুমনের সঠিক পরিচয় না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।



