ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক স্তরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রদবদল করেছেন। তিনি মোট ১০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে বদলি করেছেন। এদের মধ্যে ৯ জনকে বদলি করে নিজের দপ্তরে নিয়ে আসা হয়েছে এবং একজনকে উত্তরবঙ্গে পাঠানো হয়েছে তাঁর সরকারের হয়ে কাজ করার জন্য।
বিতর্কিত কর্মকর্তা সুরজিৎ রায়
বদলি করে নিজ দপ্তরে আনা কর্মকর্তাদের তালিকায় আছেন বিতর্কিত রিটার্নিং কর্মকর্তা সুরজিৎ রায়। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল আসন ভবানীপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সুরজিৎ রায়। নির্বাচন কমিশন তাঁকে ভবানীপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তি জানিয়েছিলেন। তিনি অন্য কাউকে এই পদে বসানোর আবেদন করলেও নির্বাচন কমিশন তাতে সাড়া দেয়নি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল, সুরজিৎ রায় একসময় পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তাঁর আমলেই শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসনে মমতাকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। মমতা সন্দেহ করেছিলেন, নির্বাচন নিয়ে এই কর্মকর্তা উল্টাপাল্টা ঘটনা ঘটাতে পারেন। শেষ পর্যন্ত ভবানীপুর আসনে শুভেন্দুর কাছে হেরে গেছেন মমতা।
শপথ ও নতুন নিয়োগ
গত শনিবার শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সুরজিৎ রায়কে তাঁর দপ্তরের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এ ছাড়া সম্প্রতি খুন হওয়া ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের জায়গায় শান্তনু বালাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া তদারককারী অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা সুব্রত গুপ্তকে উপদেষ্টা করা হয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত
শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা হলেন রাজ সিং, মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র ও ভিকি মুর্জ। রাজ সিংকে উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে এবং মায়াঙ্ক ও ভিকিকে বিহারের বক্সার থেকে আটক করা হয়। সোমবার সকালে তাঁদের উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাত আদালতে হাজির করা হয়।
গত ৬ মে রাতে উত্তর চব্বিশ পরগনার মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এরপর রাজ্য সরকার পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনকে আটক করা হলেও খুনিরা এখনো ধরা–ছোঁয়ার বাইরে। হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বৃত্তরা ব্যবহৃত গাড়িটি মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার ঘটনাস্থলের কাছে ফেলে যান। পরে ওই গাড়ির চালককে জিম্মি করে দুটি মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান। কলকাতা বিমানবন্দরের ১ নম্বর গেটের কাছে ময়লা ফেলার জায়গায় মোটরসাইকেল দুটি ফেলে অন্য যানবাহনে গা ঢাকা দেন তাঁরা। গাড়ি ও মোটরসাইকেল দুটি পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। রাজ্য পুলিশ জানতে পেরেছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নিশান কোম্পানির গাড়িটি আনা হয়েছিল পাশের রাজ্য ঝাড়খন্ড থেকে।



