অনিক হত্যাচেষ্টা মামলায় আফজাল নাছেরের আরও ৩ দিনের রিমান্ড
অনিক হত্যাচেষ্টায় আফজাল নাছেরের আরও ৩ দিন রিমান্ড

জুলাই আন্দোলনের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাসকে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) আফজাল নাছেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

রিমান্ডের আদেশ

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (১১ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান রিমান্ডের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই অনুপ কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আফজাল নাছেরের গ্রেপ্তার

২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন আফজাল নাছের। ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে সেনাবাহিনীর এই সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেলকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরদিন জুলাই আন্দোলনে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহতের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই মামলায় ওইদিন তাকে ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। এরপর বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আরও চার দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

পূর্ববর্তী রিমান্ড

গত ১৭ ও ২০ এপ্রিল দেলোয়ার হত্যা মামলায় তার তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এরপর মাহমুদুল হত্যা মামলায় ২৩ এপ্রিল চার দিন, ২৭ এপ্রিল দুই দিন, ২৯ এপ্রিল তিন দিনের এবং ২ মে আরও তিন দিনের রিমান্ড দেন আদালত।

৫ মে অনিককে হত্যাচেষ্টা মামলায় তার তিন দিন এবং ৮ মে আরও তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ হয়।

বর্তমান রিমান্ডের আবেদন

দুই দফায় ৬ দিনের রিমান্ড শেষে আফজাল নাছেরকে আদালতে হাজির করে আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই কেএম আবদুল হক।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, ''রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।''

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার বিবরণ

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে আন্দোলনকারীরা মহানগর দায়রা জজ কোর্টের সামনে এলে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ অতর্কিত গুলি চালায়। এতে আহত হন অনিক। তাকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পর গত ৩১ জুলাই কিছুটা সুস্থ হলে হাসপাতাল ছাড়েন অনিক।

ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন অনিক।