স্ত্রীর পরকিয়া প্রেমিক হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন
স্ত্রীর পরকিয়া প্রেমিক হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

প্রায় ১৪ বছর আগে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় স্ত্রীর পরকিয়া প্রেমিককে হত্যার ঘটনায় মো. শাহাদাৎ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১১ মে) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৯-এর বিচারক মাহমুদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালতে হাজির ও সাজা পরোয়ানা

রায় ঘোষণার সময় কারাগার থেকে শাহাদাৎ হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ভিকটিম আনিসের পরকিয়া ছিল। বিষয়টি আসামি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে ভিকটিমকে নিষেধ করেন। কিন্তু আনিস কথা না শুনে তার স্ত্রীর সঙ্গে আবারও দেখা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকার তেজগাঁও থানাধীন আনোয়ারা পার্কের দক্ষিণ পার্শ্বে মা মেডিকেল স্টোরের বিপরীত দিকে ফুটপাতে ভিকটিমকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে ফেলে রাখেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার তদন্ত ও বিচার

মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ভিকটিম আনিসের দীর্ঘদিন ধরে পরকিয়া সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পর আসামি তাকে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সতর্ক করেন। তবে আনিস পুনরায় দেখা করতে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শাহাদাৎ। ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তেজগাঁওয়ের আনোয়ারা পার্কের দক্ষিণ পাশে ফুটপাতে ছুরিকাঘাত করে আনিসকে হত্যা করেন। পরে ওই ঘটনায় তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. মাসদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলাটি করেছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও উপপরিদর্শক কাজী সাহান হক আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। একই বছরের ২৭ মে আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটি বিচারকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।