গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১০ মে) সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুল আলমের বিচার ও অপসারণের দাবিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের বিবরণ
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মৌচাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুল আলম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে শ্রেণিকক্ষে কিংবা প্রাইভেট পড়ানোর সময় শিক্ষার্থীদের নানা অজুহাতে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়াসহ নানা ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন অভিভাবকরা।
ঘটনার সূত্রপাত
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বিষয়টি তার মাকে জানায়। বিষয়টি জানার পর শিক্ষার্থীর মা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাউছার পারভীনকে অবহিত করেন। পরে সহকারী শিক্ষক নুরুল আলম এবং হয়রানির শিকার কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক কাউছার পারভীন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের অবস্থান
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত নুরুল আলম গত কয়েক দিন ধরে ছুটির অজুহাত দেখিয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তাকে স্কুল থেকে সরিয়ে দিতে একটি পক্ষ শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করাচ্ছে।
অভিভাবকদের বক্তব্য
হয়রানির শিকার এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, নুরুল আলম নানা অজুহাতে তার মেয়েসহ ক্লাশের মেয়েদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন। বিষয়টি তার মেয়ে তাকে জানালে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবহিত করেন। তারা ওই শিক্ষকের বিচার ও অপসারণ দাবি করছেন। অপর অভিভাবক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, তারা ওই শিক্ষকের বিচার চান। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।
শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, স্যার নানা সময় তার গায়ে হাত দিতেন। কাউকে জানালে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাউছার পারভীন বলেন, বিষয়টি জানার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া
কালিয়াকৈর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, ওই ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



