ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায় নুরুল হক হত্যা মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (১০ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক ফারজানা আহমেদ অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। কোর্ট ইন্সপেক্টর মোস্তাছিনুর রহমান আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা ও অর্থদণ্ড
একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন গফরগাঁওয়ের শিলাসী গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের তিন ছেলে শাহবাজ মিয়া (৫৮), হানিফা (৫০) ও মো. রফিকুল ইসলাম (৫৩)।
ঘটনার বিবরণ
আদালতের বেঞ্চ সহকারি আব্দুল মালেক মামলার নথির বরাতে জানান, ২০০৮ সালের ১০ আগস্ট সকালে গফরগাঁওয়ের শিলাসী গ্রামের নুরুল হকের বাড়ির পাশে বড়ই বাগানে একদল ছেলে ফুটবল খেলছিল। খেলার এক পর্যায়ে ফুটবল নুরুল হকের টিনের বেড়ায় লাগে। এতে নুরুল হক ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলেদের খেলা বন্ধ করে তাড়িয়ে দেয়। পরে ছেলেদের স্বজন শাহবাজ মিয়াসহ তার পরিবারের লোকজনকে নিয়ে এসে নুরুল হকের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নুরুল হককে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মামলা ও রায়
এই ঘটনার পর নিহত নুরুল হকের ছেলে কাজল মিয়া বাদি হয়ে গফরগাঁও থানায় হত্যা মামলা করে। মামলা তদন্তে পুলিশ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জেরা, যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত তিনজনের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বাকিদের খালাস দেন বিচারক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদুল আলম খান তান্না ও আসামিপক্ষের আইনজীবী এ.এইচ.এম. খালেকুজ্জামান মামলাটি পরিচালনা করেন।



