গাজীপুর জেলায় টানা দুই রাতের ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় আটজন নিহত হওয়ার ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে, অন্যদিকে কালিয়াকৈরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন।
কালিয়াকৈরে গণপিটুনিতে তিনজন নিহত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঘচালা গ্রামে গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা চোরদের আনা একটি ট্রাকেও আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রোববার ভোরে একটি ট্রাক নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি গরু চুরি করতে আসে বলে সন্দেহ করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে গেলেও তিনজনকে ধরে গণধোলাই দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
কালিয়াকৈর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছে এবং চোরদের আনা ট্রাকটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কাপাসিয়ায় এক পরিবারের পাঁচজন হত্যা
এর আগে শুক্রবার রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), বড় মেয়ে মীম খানম (১৫), মেজো মেয়ে উম্মে হাবিবা (৮), ছোট মেয়ে ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)। ঘটনার পর থেকে ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। শনিবার সকালে বাড়ি থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
পুলিশ জানায়, ফোরকান মিয়া পেশায় প্রাইভেটকার চালক এবং প্রায় এক বছর ধরে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে একটি কম্পিউটার টাইপ করা সাধারণ ডায়েরির কপি উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে ফোরকান স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও শ্যালকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন।
কাপাসিয়া থানার ওসি শাহীনুর আলম বলেন, ঘটনার পর থেকেই ফোরকান মিয়া পলাতক এবং তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, হত্যাকাণ্ডে ফোরকানের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ফোরকান তার ভাইকে ফোন করেছিল, কিন্তু তার মোবাইল নম্বরসহ পরিবারের কয়েকজনের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
টানা দুই রাতে পৃথক ঘটনায় আটজনের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গাজীপুরের মাওনা এলাকার লেখক, কবি ও সাংবাদিক ইজাজ আহমেদ মিলন রোববার সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, 'কি হচ্ছে এসব গাজীপুরে?'



