সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল, ১০ মামলায় মুক্তির পথ খোলা
সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল, ১০ মামলায় মুক্তি

হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দেওয়া জামিনের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) আজ রোববার খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ।

স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

একইসঙ্গে হত্যা, হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের অপর পাঁচ মামলায় আইভীকে দেওয়া জামিন স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহার করে এ-সংক্রান্ত রুল হাইকোর্টে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন আপিল বিভাগ। দ্বিতীয় দফার এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে আদেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

আইনজীবীরা বলছেন, ফলে পাঁচ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকল। অপর পাঁচ মামলায় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় তাঁর জামিন বহাল হলো। এতে ১০ মামলায় তাঁর জামিন থাকছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাকি দুই মামলার অবস্থা

আইভীকে মোট ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকি দুই মামলায় ইতিমধ্যে আইভী হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করেছে, যা চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় আসেনি। সবশেষ ওই দুই মামলায় আইভীর জামিন রয়েছে। সে হিসেবে ১২ মামলায় এখন আইভী জামিনে আছেন। এতে করে তাঁর কারামুক্তিতে আপাতত আইনি কোনো বাধা নেই বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

গ্রেপ্তার ও মামলার পটভূমি

গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক বছর পার হলেও তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। আইভীকে গ্রেপ্তারের পর প্রথমে তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এসব মামলায় অধস্তন আদালতে জামিন চেয়ে বিফল হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওই পাঁচ মামলায় গত বছরের ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট আইভীর জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। এরপর গত ১২ নভেম্বর চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল খারিজ করে আজ আদেশ দেন।

দ্বিতীয় দফার মামলা

প্রথম দফার পাঁচ মামলায় জামিনের পর আইভীকে আরও পাঁচ মামলায় গত বছরের নভেম্বরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নতুন পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি ফতুল্লা থানায় করা হত্যা মামলা। অপরটি হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় করা মামলা। দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায়ও অধস্তন আদালতে জামিন চেয়ে বিফল হন আইভী। পরে তিনি হাইকোর্টে যান। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এই পাঁচ মামলায় রুল দিয়ে তাঁকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এরপর গত ৫ মার্চ চেম্বার আদালত শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।

দ্বিতীয় দফার এই পাঁচ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল আজ আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ আইভীর জামিনে ইতিপূর্বে চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে হাইকোর্টে রুল (জামিন প্রশ্নে) নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক পাঁচটি লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেওয়া হয়।

আইনজীবীদের বক্তব্য

আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান ও এস এম হৃদয় রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফাতেমা আক্তার। জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফাতেমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাঁচ মামলায় জামিনের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল ছিল, যা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। অপর পাঁচ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক লিভ টু আপিল ছিল। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টে রুল শুনানি করতে বলেছেন আদালত। পাশাপাশি এই পাঁচ মামলায় জামিনে ইতিপূর্বে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে দিয়েছেন। ফলে ১০ মামলায় আইভীর জামিন চলমান থাকল।’

আইভীর অন্যতম আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপিল বিভাগের আদেশের ফলে ১০ মামলায় আইভীর জামিন থাকছে। সবশেষ দুই মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছে। এই আবেদনগুলো চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় এখনো আসেনি। অর্থাৎ তাঁকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন এখনো বহাল আছে। ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আপাতত আইনগত কোনো বাধা নেই।’