নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক আবুল খায়েরকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে নোয়াখালীর মাইজদী শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করে চরজব্বার থানা পুলিশ।
গ্রেফতার শিক্ষকের পরিচয়
গ্রেফতারকৃত আবুল খায়ের উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের আবদুল বারেকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিয়ে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
মামলা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পেটের ব্যথায় ভুগছিল ওই ছাত্রী। এ কারণে গত ৫ ফেব্রুয়ারি তার দাদী চিকিৎসার জন্য তাকে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আবুল খায়েরের কাছে নিয়ে যান। ওই সময় কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে কৌশলে ছাত্রীর দাদিকে বাইরে পাঠিয়ে একপর্যায়ে শিক্ষক তাকে শ্লীলতাহানি করেন।
পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে বিলম্ব হয়। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ১৫ এপ্রিল ভিকটিমের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ।
আদালতে জবানবন্দি
মামলা সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল দুপুরে ভুক্তভোগীর বাবা মোহাম্মদ আবদুর রহিমের অভিযোগের ভিত্তিতে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেন ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। পরে আদালত তার জবানবন্দির ভিত্তিতে থানায় মামলা অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ দেয়।
ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা
পরবর্তীতে মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের সমর্থকরা। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীর মা থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
ভাইরাল হওয়া প্রায় ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল ব্যক্তি ওই ছাত্রীর বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। হামলাকারীরা মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দেয় বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ওসি লুৎফুর রহমান বলেন, সুবর্ণচরের শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা হলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্ত প্রধান আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আবুল খায়েরকে গ্রেফতার করা হয়।



