পবিপ্রবিতে প্রকল্প পরিচালককে অবরুদ্ধ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
পবিপ্রবিতে প্রকল্প পরিচালককে অবরুদ্ধ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ওবায়দুল ইসলামকে আজ সোমবার দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে এক দল শিক্ষার্থী অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দেড় ঘণ্টা পর তিনি মুক্তি পান।

দুর্নীতির অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ

ওবায়দুল ইসলাম দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেন যে, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেছেন। তবে ছাত্রদলের নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী এইচ এম সামিউল বলেন, 'প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম মাসে দু-একবার এসে নামমাত্র কাজ পরিদর্শন করেন এবং বাকি সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন। তিনি ও তাঁর লোকজন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। নির্মাণাধীন সব কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক কাজ হস্তান্তরের আগেই বিকল বা ত্রুটিপূর্ণ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রশাসন, প্রকৌশল শাখা ও পিডিকে সতর্ক করা হলেও তারা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আমলে নেয়নি। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে তাঁকে অবরুদ্ধ করেছেন।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রকল্প পরিচালকের পাল্টা অভিযোগ

অবরুদ্ধ হওয়ার পর ওবায়দুল ইসলাম একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রকল্পের পরিশোধিত বিলের ১ শতাংশ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখেন। তিনি আরও বলেন, 'গত ৭ এপ্রিল ছাত্রদলের নেতারা একই দাবিতে আসেন, তখনও তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আজ তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার কার্যালয়ের দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাত্রদলের অস্বীকৃতি

চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, 'প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম টেন্ডার দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেন এবং পদে পদে অনিয়ম করেন। আমরা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কাজের গুণগতমান বজায় রাখার অনুরোধ করেছি; কিন্তু তিনি তা অগ্রাহ্য করে অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করেছেন। চাঁদা দাবির অভিযোগ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। নিজের অপরাধ ঢাকতে তিনি আমাদের দোষারোপ করছেন।'

উপাচার্যের বক্তব্য

উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি দাপ্তরিক কাজে বরিশালে ছিলেন। প্রকল্প পরিচালক ফোন করে বিষয়টি জানালে তিনি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে ফোন করে সমাধানের নির্দেশ দেন। তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যাতে ব্যয় ধরা হয় ৪৩৫ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে অনেক কাজ শেষ হলেও বর্তমানে ৯১ কোটি টাকার কাজ চলমান। এসব প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।