দেশে শ্রম আদালতে মামলার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫৪৬, বাড়ানোর দাবি
শ্রম আদালতে মামলার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫৪৬, বাড়ানোর দাবি

ঢাকাসহ সারা দেশে বর্তমানে ১৩টি শ্রম আদালত এবং একটি মাত্র শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। তবে এই অপ্রতুল আদালত ব্যবস্থার কারণে মামলার জট বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এসব আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৫৪৬টি। এর মধ্যে শ্রম আদালতে ২৬ হাজার ৪৫৩টি এবং আপিল ট্রাইব্যুনালে এক হাজার ৯৩টি মামলা রয়েছে। আপিল ট্রাইব্যুনালের ৭০টি মামলা উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ১৩ হাজার ৮৩৩টি।

আইনজীবীদের মতামত

মানবাধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, “শ্রম আদালতের মামলাগুলো সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা উচিত। এর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও ট্রাইব্যুনাল সংখ্যা বাড়ানো দরকার। বর্তমানে একটি আপিল ট্রাইব্যুনাল থাকায় তা চারটিতে উন্নীত করা উচিত। মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়লে শ্রমিকরা মামলা করতে আগ্রহী হবেন, নইলে তাদের নীরবে মালিক পক্ষের অত্যাচার সহ্য করতে হবে।”

আদালত ভেদে মামলার সংখ্যা

শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার তিনটি আদালতে যথাক্রমে ৪,৪৯৩, ৬,৩৯৮ ও ৩,১৬৯টি মামলা বিচারাধীন। চট্টগ্রামের দুটি আদালতে ১,৬৭০ ও ৮৬৯টি, নারায়ণগঞ্জে ২,৮১৫টি, গাজীপুরে ৬,২৩০টি, কুমিল্লায় ৩২৬টি, খুলনায় ১৬৪টি, রাজশাহীতে ৮৫টি, রংপুরে ১০২টি, সিলেটে ৬৪টি এবং বরিশালে ৬৮টি মামলা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনজীবী মো. খাদেমুল ইসলামের বক্তব্য

মানবাধিকার সংগঠন রাইজ ফর রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. খাদেমুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশে শ্রম আদালতের সংখ্যা খুবই কম, বিশেষ করে শিল্প এলাকায়। সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজন। এছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে শ্রম পরিদর্শক, কলকারখানা অধিদফতর ও শিল্প পুলিশ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে রাস্তায় নামা ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে না। শ্রম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে আরও কার্যকর করা উচিত, যাতে তারা মালিক-শ্রমিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। শ্রম আদালত বাড়িয়ে অল্প সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।”

ব্যারিস্টার পল্লবের ভিন্ন মত

ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব শ্রম আদালত প্রসঙ্গে ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, “শ্রম আদালতের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি হলেও আমি মনে করি, ‘শ্রম আদালত’ নামে আলাদা আদালত থাকার প্রয়োজন নেই। বিশ্বের কোথাও শ্রম আদালত বলে কিছু নেই। আমাদের দেশে বড় বড় করপোরেট হাউস ও এনজিওগুলোর প্ররোচণায় আইন করে এসব আদালত গঠন করা হয়েছে। আমরা শিগগিরই এই আইন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রে ‘এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনাল’ রয়েছে, যা সব শ্রমিকের জন্য সমান। আমাদের দেশে শ্রমিক বলে নিম্নমানের অবস্থান তৈরি করা হয়েছে। যেমন, গার্মেন্টসে কাজ করলে তারা শ্রমিক, কিন্তু করপোরেট হাউসে কাজ করলে তারা কি শ্রমিক নন? বৈষম্যমূলকভাবে এই আইন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে ‘এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনাল’ রয়েছে, যেখানে অফিসের ম্যানেজার হোক বা পিয়ন, সবার জন্য একই আদালত ব্যবস্থা।”