কুড়িগ্রামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামিদের অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ ইসমত আরা এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট আদালতের স্টেনোগ্রাফার জিন্নাতুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
একই দিন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জয়নাল আবেদীনের আদালত মাদক মামলায় এক আসামিকে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তারিকুল ইসলাম তারিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- জামালপুরের সোলায়মান (৩১), কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ঘুঘুমারি এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা (৩০), একই এলকার রাজু আহম্মেদ ওরফে মুসা মোল্লা (৩৭) এবং রংপুরের কোতোয়ালি থানার চিকলী ভাটা এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান টুটুল মেকার (৪২)। এর মধ্যে সোলায়মানকে ২০ হাজার টাকা এবং অন্য আসামিদের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ছয় মাসের করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ
আদালত সূত্র জানায়, ২০২০ সালে কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আসামি গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি রাজু আহম্মেদ ওরফে মুসা মোল্লা এবং আসাদুজ্জামান টুটুল মেকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের জেল হাজাতে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়না জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
অপর মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড
২০১৬ সালের পৃথক একটি মাদক মামলায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ফুলবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা নুর ইসলামকে সাত বছরের সশ্রম করাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। নুর ইসলামের বিরুদ্ধে ২৫ কেজি গাঁজা পরিবহনের অভিযোগে ফুলবাড়ী থানায় মামলায় হয়েছিল। রায় ঘোষণার সময় নুর ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



